শেখর দুবে, কলকাতা: শেষ পঞ্চায়েত ভোটে পুরুলিয়াতে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে বিজেপি৷ আর পেছনে জেলার বজরং দলের কর্মীদের হাত রয়েছে তা আড়ালে আবডালে স্বীকার করে নেন অনেক বিজেপি নেতাই৷ কিন্তু গৌরব সিং, সুরজ শর্মা সহ পুরুলিয়া জেলার বজরং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন৷

বজরং দলের কর্মী-সমর্থকদের শাসক দলে পা রাখার কারণ হিসেবে দুটি পরস্পর বিরোধী মত সামনে এসেছে৷ বিজেপির অভিযোগ, জোর করে জেলের ভয় এবং লোভ দেখিয়েই ওদের দলে নেওয়া হয়েছে৷ অন্যদিকে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের পালটা দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের উন্নয়নে আকৃষ্ট হয়েই দলে এসেছেন বজরং কর্মীরা৷

১৯৮৪ সালে উত্তরপ্রদেশে তৈরি হয় বজরং দল ৷ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যুব সংগঠন হিসেবে বজরং কর্মীরা হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় অংশ নেন৷ রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ প্রবল৷

কেন শাসক দলের ছত্রছায়াতে আসলেন বজরংয়ের গৌরবরা? ফেসবুকে আপলোড করা একটি ভিডিওতে এর উত্তর দিয়েছেন গৌরব নিজেই৷ তিনি বলেছেন, ‘‘ আজ হয়ত আমাকে অনেকে গদ্দার ভাবছেন৷ ফেসবুকে আমার বিরোধিতা করে পোস্ট করছেন৷ আমি পুরুলিয়া জেলা জুড়ে হিন্দুদের একত্রিত করতে চেয়েছিলাম৷ আমার লড়াইয়ের ছিল রাম মন্দির বানানোর জন্য৷ কিন্তু সেখান থেকে সরে আমি বিজেপির প্রধানমন্ত্রী বানানো-তে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম৷ পুরুলিয়াতে আমাদের লাগানো ফসল, পঞ্চায়েতে ঘরে তুলল বিজেপি৷ ভোটের পর জেলা জুড়ে কী অবস্থার মধ্যে পড়তে হয় বজরং দলের কর্মীদের তার খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করেনি বিজেপি নেতারা৷ পার্টি অফিসে বসে শুধু বড়বড় কথা বললেই নেতা হওয়া যায় না৷’’

তৃণমূল কংগ্রেসে আসার আগে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করে আসছেন গৌরব৷ তিনি লেখেন, ‘‘রামের নামে রাজনীতি করে নেতারা গাড়ি কিনছে৷ আর আমরা রামভক্তরা পরিবারের মুখে দু’বেলা খাবার দিতে পারছি না৷’’ তিনি আরও লেখেন, ‘‘হিন্দুদের পরিবারের জন্য আমি জেলে গেলাম৷ আর আজ আমার পরিবারকে দেখার কেউ নেই৷ শালারা ১১৪ দিনে ঘরে এক কিলো চাল পৌঁছায় নাই, আজ বড় বড় ভাষণ৷’’

অনেকটাই একই রকম জবাব শোনা গেল আর এক বজরং কর্মী সুরজ শর্মার কাছে৷ সুরজ বলেন, ‘‘আগে আমরা কোনও দল করতাম না৷ আমাদের জয় শ্রী রাম স্লোগানকে হাতিয়ার করে এখানে ভোটে জিতেছে বিজেপি৷ এরপর আমাদের খোঁজ রাখার প্রয়োজন মনে করেনি৷ তাই আমরা দিদির উন্নয়নে বিশ্বাস রেখে এবার তৃণমূলে যোগ দিয়েছি৷’’ পাশাপাশি সুরজ বলেন, ‘‘ সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার জন্য বজরং দলের পদ ছেড়ে দিচ্ছেন তারা৷’’

বজরং কর্মীদের অভিযোগকে পাত্তা দিতে নারাজ বিজেপি জেলা এবং রাজ্যস্তরের নেতারা৷ বিজেপির জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা জানিয়েছেন, ‘‘ ও সব বজরং দলের ব্যাপার ওদের জিজ্ঞেস করুন৷ ওরা কেউ বিজেপি কর্মী ছিল না৷ আমি অন্য সংগঠনের কর্মীদের বিষয়ে কথা বলতে পারবো না৷’’ একই রকম জবাব দেন পুরুলিয়াতে প্রভাবশালী বিজেপির যুব রাজ্য সভাপতি দেবজিৎ সরকার৷

বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি কলকাতা২৪x৭-কে বলেন, ‘‘সারা রাজ্য দেখছে কিভাবে কোন পরিস্থিতিতে বিরোধীদের তৃণমূল বানানো হচ্ছে৷ পঞ্চায়েতে হারের পর ওরা আমাদের দলের প্রায় ১৩০০ কর্মীকে মিথ্যে কেস দিয়ে জেলে পুরেছে৷ কিন্তু যারা সৎ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিকতা তাদের রয়েছে৷ কই তারা তো কেউ জেল থেকে বেরিয়ে এসেই তৃণমূলের পতাকা ধরছে না৷ যারা তৃণমূলের পতাকা ধরছে তারা কেন ধরছে সেটাও খোঁজ নিয়ে দেখুন৷ এতদিন জেলে ছিলই বা কেন, কেনই বা তারা হঠাৎ করে জেল থেকে ছাড়া পেল৷’’