শ্রীনগর : পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড কামরান কে খতম করা হয়েছে বলে দাবি ভারতীয় সেনার। ৪০ জন জওয়ানের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে শপথ নিয়েছিল ভারতীয় সেনা। কামরান কে মেরে সেই কথাই রাখল ভারতীয় সেনা।

জইশ-ই-মহম্মদের শীর্ষনেতা মাসুদ আজহার নিজের ভাইপো উস্মান এবং ভাগ্নে তল্হা রসিদের মাধ্যমে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাত। অপারেশন অলআউটে জওয়ানরা তাদের খতম করতে সফল হয়েছিল। তারপর থেকে মাসুদ আজহার আইইডি বিশেষজ্ঞ গাজী রশিদ ওরফে কামরানকে এই দায়িত্ব দেয়।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, গাজী দু’জন সহযোগীর সঙ্গে গত ডিসেম্বর মাসে কাশ্মীর এসেছিল। দক্ষিন কাশ্মীরে গা ঢাকা দিয়ে থাকছিল সে। গাজী মাসুদের ডান হাত হিসেবেই পরিচিত ছিল। ২০০৮ সালে জইশ-ই-মহম্মদে যোগ দেয় এই গাজী। জইশে যোগদানের জন্য গাজীকে তালিবানের প্রশিক্ষন দেওয়া হয়।

২০১০ সালে গাজী উত্তর বজিরিস্তানে আসে। সেখানেই মসুরের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ পায় কামরান।

বৃহস্পতিবারের সেনা কনভয়ে আত্মঘাতী হামলার রেশ কাটেনি এখনও৷ তারই মধ্যে রবিবার গভীর রাত থেকে দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় শুরু হয় গুলির লড়াই৷ পুলওয়ামার পিংলায় নিরাপত্তাবাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে গুলির লড়াই চলে৷ বেশ কয়েকজন জঙ্গি ওই এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে বলে সন্দেহ সেনাবাহিনীর৷

রবিবার গভীর রাতে সেনাবাহিনীর জওয়ানদের লক্ষ্য করে প্রথমে গুলি ছোঁড়ে জঙ্গিরা৷ পালটা তাদের গুলি করা হয় নিরাপত্তাবাহিনীর তরফে৷ রাতভর এই লড়াই চলে৷ জঙ্গিদের ছোঁড়া গুলি লেগে প্রথমে জখম হন এক অফিসার সহ নিরাপত্তা বাহিনীর চার জওয়ান৷ তাদের ভরতি করা হয়েছে সেনা হাসপাতালে৷ পরে সেনা জঙ্গি গুলির লড়াইয়ের মাঝে পড়ে শহিদ হন এক মেজর সহ ভারতীয় সেনার তিন জওয়ান৷

এরপরই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তীব্রতা বাড়িয়ে দেয় সেনা৷ সময় নষ্ট না করে জইশ সংগঠনের শীর্ষ জঙ্গি কামরানের গোপন ডেরা উড়িয়ে দেয় তারা৷ তাতেই মারা যায় পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড কামরান সহ দুই জঙ্গি৷ কামরানকে হত্যা করে পুলওয়ামার ৪০ জন শহিদ সেনার বদলা নিল ভারতীয় জওয়ানরা৷