ওয়াশিংটন: আইএস জঙ্গি সংগঠনের নেতা বাগদাদীকে খতম করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জারি ছিল জল্পনা। অবশেষে বহু সেই বাগদাদীকে খতম করার খবর শোনালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই কুখ্যাত জঙ্গিনেতার মৃত্যুর পর আইএসের অস্তিত্ব আদৌ ধাকবে কিনা, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

কীভাবে জঙ্গিদলের নেতা হয়ে উঠল এই বাগদাদী?

আইএসের শীর্ষ নেতা বাগদাদীর আসল নাম নাম ইব্রাহিম আওয়াদ আল-বদরি। ১৯৭১ সালে ইরাকের সামারায় জন্ম তার। বাগদাদী ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর কোরানিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি করে।

২০০৪ সালে ক্যাম্প বুকাতে বন্দি হয় বাগদাদী। সেখানে প্রাক্তন ইরাকি গোয়েন্দা কর্তাসহ অন্যান্য বন্দিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার।

২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরুর সময় বাগদাদের একটি মসজিদের ইমাম ছিল এই বাগদাদী। ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেনের সময়েই নাকি জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে বাগদাদী। তবে, কেউ কেউ মনে করেন, দক্ষিণ ইরাকে একটি মার্কিন সামরিক ক্যাম্পে চার বছর বন্দি থাকার সময়ই বাগদাদী জঙ্গিবাদের শিক্ষা নেয়।

তার তিন স্ত্রী, তিন সন্তান রয়েছে বলে জানা যায়। যদিও এ বিষয় মতভেদ রয়েছে। বাগদাদীর মাথার দাম ক্রমেই বাড়ছিল। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৭৭ কোটি টাকায় এসে দাঁড়ায় তার মাথার দাম। শোনা যায়, খুব ভাল ফুটবলারও ছিল বাগদাদী। কলেজে তাকে অনেকে ‘মারাদোনা’ বলেও ডাকত।

২০১৪ সালে ইরাকের মসুলে আল নুরি মসজিদের সামনে এক ভিডিওতে বাগদাদীকে প্রথম দেখা যায়। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান শুরু করে আমেরিকা ও রাশিয়া। যদিও এতদিন সব অভিযানই ব্যর্থ হয়েছে। ২০১১ সালে আমেরিকা বাগদাদীকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এক কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে। ২০১৭ সালে পুরস্কারের পরিমাণ বাড়িয়ে আড়াই কোটি ডলার করা হয়।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, বাগদাদীর কুকুরের মত মৃত্যু হয়েছে। একাধিক সূত্রে এও দাবি করা হয়েছে, মার্কিন সেনা অভিযানে ধরা পড়ে যাবে বুঝতে পেরে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় বাগদাদী।