শিবপ্রিয় দাশগুপ্ত : উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র প্রচারে বলছেন, “কামারহাটিতে আমার প্রতিপক্ষ বামেরা। তবে আমি সুযোগ পেলে বুঝিয়ে দেব আমিও কম বামপন্থী নয়।” ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্বাচনী ভাষণ শুনলে বোঝা যাচ্ছে না কে কোন দলের প্রার্থী। কামারহাটি এমনই একটি বিধানসভা কেন্দ্র যেখানে প্রচারে বের হয়ে তৃণমূলের প্রার্থী রাজ্য রাজনীতিতে পরিচিত মুখ মদন মিত্র এহেন কথা বলছেন। তবে মদন মিত্রর প্রতিপক্ষ সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী সায়নদীপ মিত্র কোনও বিতর্কে, ব্যক্তিগত আক্রমণে না গিয়ে শুধু প্রচারে বলছেন, “আমরা ক্ষমতায় এলে রাজ্যে সরকারি চাকরির পরীক্ষা নিয়মিত হবে। শ্রমিকরা শ্রমের ন্যায্য দাম পাবেন। ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিলে ছাড় দেওয়া হবে।” তবে এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারে বার হয়ে তৃণমূলের দুর্নীতি প্রকাশ্যে এনে নিজের পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। বিঁধেছেন ৩৪ বছরের বাম সরকারকেও।

কী বলছেন মদন মিত্র?

মদন মিত্র কামারহাটি বিধানসভার হেভিওয়েট প্রার্থী। মদন মিত্র প্রচারে বার হয়ে বলছেন, “আমি বাম ভোটারদের বলছি আমায় ভোট দিন। বামেরা যে ভাবে উন্নয়ন চান, আমি জিতে এসে সেভাবেই উন্নয়ন করে কামারহাটিকে সাজিয়ে দেব। আমাদের ভোট দিলে সেই ভোটটা নষ্ট হবে না । বামেদের ভোট দিলে ভোটটা নষ্ট হবে। কারণ কামারহাটিতে সিপিএম প্রার্থী অনভিজ্ঞ। এই ধর্মযুদ্ধে তিনি পেরে উঠবেন না। তাই বলছি আমায় ভোট দিন। আমিও যে কম বামপন্থী নই তার প্রমাণ পাবেন। কামারহাটিতে তিন বারের জয়ী সিপিএম প্রার্থী মানস মুখোপাধ্যায়ের নাম প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তিনি প্রয়াত অমিতাভ নন্দীর লবির লোক বলে। তিনি জানতেন না তাঁকে প্রার্থী করা হচ্ছে না।” তবে এর পরেও মদন মিত্রর দাবি, “কামারহাটিতে আমিই জিতছি।”

কী বলছেন বামের?

মদন মিত্রর প্রচারে রোজ চাঁদেরহাট বসছে। টালিগঞ্জের সব তৃণমূলপন্থী তারকা, সংগীত শিল্পীরা যখন মদন মিত্রর প্রচারে ঝড় তুলছেন তখন এই কামারহাটি সিপিএম প্রার্থী সায়নদীপ মিত্রর প্রচারে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় তুলছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী, নন্দীগ্রামের সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখ্যোপাধ্যায়। মীনাক্ষী বলছেন, “আজ দেখছি তারকারা প্রার্থী, তারকারা প্রচারে। যারা কোনওদিন রাজনীতিতে ছিলেন না, সকালে উঠে হঠাৎ ঘোষণা করলেন আমরা মানুষের কাজ করবো। আমরা রাজনীতি করবো। তারপর নেমে পড়লেন। আমরা এভাবে রাজনীতি করি না। আমরা ধারাবাহিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে আজ কেউ প্রার্থী,.কেউ প্রচারক। মানুষ এসব বুঝতে পারছেন। তাই সংযুক্ত মোর্চা এগোচ্ছে। কোনও দয়ার দানে মানুষ ভুলবেন না। নিজের অধিকার বুঝে একটা মানুষের পক্ষের সরকার প্রতিষ্ঠা করুন।” মীনাক্ষীর এই ভাষণের লক্ষ্য যে মদন মিত্রর মিছিলের তারকার ভিড় সেটা স্পষ্ট।

কী বলছেন রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়?

তবে কামারহাটি বিজেপি প্রার্থী রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচারে একদিকে মদন মিত্র অন্যদিকে সায়নদীপ মিত্রকে বিঁধেছেন । ৩৪ বছরের বাম আমলের শাসন ব্যবস্থার সমালোচনার পাশাপাশি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠছে তৃণমূলরের বিরুদ্ধে নানান দুর্নীতির অভিযোগ। বাদ যাচ্ছে না “ভাইপো” শব্দবন্ধ মুখে এনে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা।

কামারহাটি তাহলে কার দখলে যাচ্ছে? এটা কিন্তু নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। তবে মদন মিত্রর তুলনায় যেন কিছুটা আত্মবিশ্বাসী বাম ও বিজেপি প্রার্থীরা। কেননা তাঁরা কেউ তৃণমূলের ভোট চাইছেন না। তবে কামারহাটি কার? জানতে অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে ২ মে পর্যন্ত।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.