বেঙ্গালুরু: গগনায়নের কথা গত বছরই ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেইমত সমস্ত প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে ইসরোতে। এই অভিযানে মহাকাশে মানুষ পাঠাবে ভারত। আর তার আগে চলবে মহড়া। সব দিক থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেলে, তবেই এই মহাকাশ অভিযান করবে ভারত।

জানা গিয়েছে, গগনায়নে যাদের মহাকাশচারী হিসেবে পাঠানো হবে, তাঁদের মধ্যে কোনও মহিলা নেই। তবে, মহড়ায় পাঠানোর জন্য এক ‘মহিলা’কেই বেছে নিয়েছে ভারত। না, রক্ত-মাংসের মানবী নয়। রোবট মহিলাকে পাঠানো হবে মহাকাশে। সামনে এল তার ছবি।

ওই রোবটের নাম ‘ব্যোমমিত্রা।’ একসঙ্গে অনেক কাজ করতে সক্ষম সে। অনর্গল দুটি ভাষায় কথা বলে যেতে পারে এই যন্ত্র-মানবী। ইসরো চেয়ারম্যান কে সিবান জানিয়েছেন, রোবট প্রায় তৈর হয়ে গিয়েছে। তাকে দিয়েই পরীক্ষা করা হবে যে মানুষকে নিরাপদে মহাকাশে পাঠিয়ে আবার ফেরত আনা সম্ভব হয় কিনা।

ফাইনাল অভিযানের আগে দু’বার মানববিহীন যান মহাকাশে পাঠাবে ভারত। আর সেই দুটিতেই থাকে এই যন্ত্র-মানবী। মোটামুটিভাবে মানুষ যা করতে পারে, সেইসব কাজই করবে এই রোবট। প্রথম উড়ান যাতে একেবারে ফাঁকা না যায়, সেই জন্যই এই ব্যবস্থা।

চারজন মহাকাশচারীকে ইতিমধ্যেই বেছে নিয়ে ইসরো। গত বছরের সেপ্টেম্বরেই ১২ জন এয়ারফোর্স অফিসারকে বেছে নেওয়া হয়। এরা লেভেল-১ স্ক্রিনিং পার করেন। পরে চারজনকে অভিযানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ছেন কে সিবান।

২০২২-এর মধ্যে পুরো প্রোগ্রাম সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ৩০ মাসের মধ্যে পাঠানো হবে প্রথম মানব-বিহীন স্পেসক্রাফট। আর মূল অভিযানে তিনজন মহাকাশচারীকে পাঠানো হবে। এই প্রোগ্রামে ১০,০০০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়ে ছিলেন, ২০২২ সালে কোনও ভারতীয় পুরুষ বা মহিলা ‘গগনযান’-এ মহাকাশে পাড়ি দেবেন। ভারতের জাতীয় পতাকা মহাকাশে উড়বে বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।