জৈন সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে মহাবীর জয়ন্তী হল একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং সবথেকে বড় উৎসব। মহাবীরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাড়ম্বরে পালিত হয় এই দিনটি। এই বছর মহাবীর জয়ন্তী পড়েছে ২৫ এপ্রিল রবিবার। জৈন ধর্ম অনুসারে তিনি ছিলেন এই ধর্মের ২৪তম এবং সর্বশেষ ‘তীর্থঙ্কর’ বা ধর্মগুরু।

জৈন ধর্মের সবচেয়ে বড় গুরু হলেন ২৪তম এবং শেষ ‘তীর্থঙ্কর’ মহাবীর। আনুমানিক ৫৯৯ খ্রীস্টপূর্বাব্দে তিনি বিহারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন রাজা সিদ্ধার্থ এবং মাতা রানী ত্রিশলা।

জৈনদের আধ্যাত্মিক গ্রন্থ অনুসারে, চৈত্র মাসের ১৩তম দিনে মহাবীর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কথিত আছে যে, ভগবান মহাবীরকে জন্ম দেওয়ার সময় রানী কোনও বেদনা অনুভব করেননি।

মাত্র ৩০ বছর বয়সে মহাবীর রাজকীয় জীবনের সুখ সহ গৃহ ও পরিবারকে পরিত্যাগ করে এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অনুসন্ধানে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন।

আরো পোস্ট- মহাবীর জয়ন্তী: সারাদেশ জুড়ে মহাসমারোহে পালিত হয় বিশেষ দিনটি

জৈন মন্দিরগুলি এইদিন পতাকা দিয়ে সাজানো হয় এবং মহাবীরের মূর্তিকে দুধ বা জল উৎসর্গ করা হয়। তারপর করানোর পর পালকিতে বা ঘোড়ার গাড়িতে সেই মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়।

ভগবান মহাবীর অহিংসা, প্রেম এবং মমত্ববোধকে অনুসরণ করতে বলেছিলেন। পুরোহিতরা, এই দিনে ভগবান মহাবীরের শিক্ষা সম্পর্কে বর্ণনা করে থাকেন। ভক্তরা এই দিনটিতে ভগবান মহাবীরের নামে অভাবী ও দরিদ্র লোকদের খাওয়ান। জৈন মন্দিরগুলি এই দিন দান, ধ্যান মূলক অনেক কাজ করে থাকেন। এই দিনে ভক্তরা সততা ও সাধারণ জীবনযাত্রার পথ অনুসরণ করার শপথ নেন।

ভারতে জৈন ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা কম হলেও উত্তর আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশ গুলিতে প্রবাসী জৈনদের অস্তিত্ব রয়েছে। বিশেষত, শিক্ষাক্ষেত্রে বৃত্তিদানের এক প্রাচীন প্রথা জৈনদের মধ্যে আজও বর্তমান।

মহাবীর, জীবনের মানোন্নয়নে অহিংসা: অর্থাৎ সকলের প্রতি ভালোবাসা, সত্য:অর্থাৎ জীবনে চলার পথে সর্বদা সত্য কে অনুসরণ, অস্তেয়: অর্থাৎ চুরি না করা, ব্রহ্মচর্য : অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং অপরিগ্রহ : সংসারে অনাসক্তি -এই ৫ ব্রত পালনের শিক্ষা তিঁনি দিয়েছিলেন।

এরপর সাড়ে ১২ বছরের দীর্ঘ সাধনার পর তিনি অপার জ্ঞান লাভ করেন। শুধু তাই নয়, জৈনরা বিশ্বাস করেন যে , ৭২ বছর বয়সে তিঁনি মোক্ষ লাভ করেছিলেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.