মুম্বই: মহারাষ্ট্রে নতুন সরকার গড়ার প্রক্রিয়া চলাকালীন সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার জন্য সুপারিশ করলেন রাজ্যপাল ভগৎসিং কোশিয়ারী৷ তারপরে মহারাষ্ট্রে জারি হল রাষ্ট্রপতি শাসন। রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাতে পেশও করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির সুপারিসে সিলমোহর দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

রাষ্ট্রপতি এই সুপারিশে সই করতেই ৩৫৬ ধারা জারি হল গোটা মহারাষ্ট্রে। আপাতত ছয় মাসের জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলেও পরবর্তীকালে তা আরও ছয় মাস বাড়াতেও পারেন রাজ্যপাল। কিন্তু গোটা বিষয়টি নিয়ে রাজ্যপালের ভূমিকা ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে৷ কারণ সেখানে প্রথমে বিজেপি এবং শিবসেনাকে সরকার গড়ার জন্য আহ্বান জানালেও দুই দলই সংখ্যা গরিষ্ঠতা জন্য সে কাজে ব্যর্থ হয়৷ তখন সরকার গড়ার জন্যএনসিপি-কে ডাকা হয়েছিল এবং আজ সাড়ে আটটা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু সেই সময়সীমা পার হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগেই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হল৷

এবার দেখে নিন মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের অতীত

১৯৪২ সালে ১৭ জুন উত্তরখন্ডের বাগেশ্বর জেলার পালানধুরা চেতাবগড় অঞ্চলে জন্ম হয়ভগৎসিং কোশিয়ারীর৷ ছাত্রাবস্থা থেকেই তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন৷ ১৯৬৪ সালে তিনি ইংরেজিতে এমএ পাশ করেন ৷ কলেজে পড়াকালীন তিনি কলেজের স্টুডেন্ট ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন৷ তিনি কুমায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন ১৯৭৯-৮২,১৯৮২-৮৫ এবং ১৯৮৮-৯১সালে ৷ রাজনীতি করলেও পেশা গত দিক থেকে তিনি সাংবাদিক ছিলেন৷

কোশিয়ারী ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের সঙ্গে যুক্ত৷ অন্যান্য আরএসএস এবং জনসঙ্ঘের নেতাদের মতো কোশিয়ারী জরুরি অব্স্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন৷ সেই সময় আলমোড়া এবং ফতেগড় জেলে আটক রাখা হয়েছিল তাঁকে৷ মিশাতে তিনি ১৯৭৫ সালের ৩জুলাই আটক হয়েছিলেন এবং ১৯৭৭ সালের ২৩মার্চ মুক্তি পান৷

১৯৯৭ সালের মে মাসে তিনি উত্তর প্রদেশ বিধান পরিষদের সদস্য হন৷ ওই রাজ্য ভাগের পর নতুন রাজ্য উত্তরাঞ্চলের (অধুনা উত্তরাখন্ড) বিদ্যুৎ, জলসেচ, আইন মন্ত্রী হন ২০০০ সালে৷ এরপর ২০০১ সালে তিনি সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী হন৷ তিনি ওই রাজ্যের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী৷ তবে পরের বিধানসভা ভোটে বিজেপি হারার পর ২০০২ সালে হন বিরোধী দলনেতা৷ ২০০৮ সালে তিনি রাজ্যসভায় সাংসদ হন৷ ২০১৪ সালে লোকসভার সদস্য হন৷ তিনি উত্তরাখন্ডের বিজেপি প্রধান হওয়ার পাশাপাশি তিনি হয়েছিলেন বিজেপি-র জাতীয় সহ-সভাপতি৷ তিনি এই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন৷