স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শহরে বক্তব্য রাখবেন দেবেন উমর খলিদ৷ ১৫ ডিসেম্বর, শনিবার, জওহরলাল নেহরু বিশ্বিদ্যালয়ের এই ছাত্রকে ২০১৬ সালে পুলিশ দেশদ্রোহিতার মামলায় গ্রেফতার করে৷ কারণ, সংসদ ভবন আক্রমণের মূল ষড়যন্ত্রী আফজল গুরু এবং কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মকবুল বাটের মৃত্যুদ্বন্দ্বের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে বিভোক্ষ দেখিয়েছিলেন উমর৷ তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার হন ছাত্র সংসদের তৎকালীন সভাপতি কানহাইয়া কুমার৷ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কানহাইয়াও ২৬ ডিসেম্বর কলকাতায় বক্তব্য রাখতে আসছেন৷ সিপিআই-য়ের সাধারণ পর্ষদের সভায় মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন তিনি৷

তবে কলকাতায় উমর খলিদ যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন, সেটির উদ্যোক্তা কারা, সেবিষয়ে জানতে পারছে না আম জনতা৷ সোশ্যাল মিডিয়ার বা হোয়াটস্ অ্যাপে অনুষ্ঠানের যে প্রচারপত্র ছড়িয়েছে, সেখানে উদ্যোক্তা কারা, সে সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা নেই৷ উত্তর কলকাতায় সুকিয়া স্ট্রিটের রামমোহন লাইব্রেরিতে বেলা ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানে উমর খালিদের সহ বক্তা অর্জুন প্রসাদ সিং৷ পুলিশ সূত্রে খবর, শহরের কিছু নকশাল পন্থী সংগঠন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উগ্র বামপন্থী ছাত্র সংগঠন – অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোশিয়েশনের (আইসা) দাবি, তারা উমর খালিদকে শহরে ডাকে নি৷ ওই অনুষ্ঠান সম্পর্কে তাদের কোনও ধারণা নেই৷

ভারতীয় রাজনীতিতে উমর খালিদ একটি বিতর্কিত চরিত্র৷ জওহরলাল নেহরু বিশ্বদ্যালয়ের বাইরে দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়া অভিযোগ রয়েছে ওই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে৷ কালো মুখোস পরে সেদিন কারা বলেছিল ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’’ তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে৷ পরে অবশ্য আদালত নির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে তাঁকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়৷ বিজেপির ছাত্র সংগঠন – অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এর সঙ্গে বিরোধ বাধে উমর খালিদের৷ কিছুদিন আগে দিল্লির Constitution Club of India -এর সামনে ছাত্র নেতা উমর খলিদকে গুলিবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল৷ অল্পের জন্য প্রাণ বাঁচে উমরের৷

উমর খালিদের ওপর গুলি চালনার পর নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে নানান দিক থেকে অভিযোগ উঠে আসছে৷ ট্যুইটারে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিজের ভাবনা ব্যক্ত করেছেন উমর৷ ওই ছাত্র নেতার বক্তব্য, ‘‘মোদীজি স্বাধীনতা দিবসে আপনার ভাষণের ব্যাপারে জনগণের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন৷ আমার পরামর্শ, আপনি কী গ্যারান্টি দিতে পারেন, যারা আপনার সরকারের বিরোধীতা করবে, ব্যর্থতা তুলে ধরবে, তাঁদের ওপর কোনও আক্রমণ হবে না?’’সোশ্যাল মিডিয়ায় উমরের প্রশ্ন, দেশে যাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁরাই আক্রান্ত হয়েছেন৷ কয়েকজন খুন হয়েছেন৷ তালিকাটা দীর্ঘ, ধাবোলকার, কুলবর্গী, পানসারে, গৌরী লঙ্কেশ …৷ তবে বন্দুকের নলটা আমার দিকেও ঘুরবে বলে মনে হয়৷ ১৫ অগস্ট আমরা যে স্বাধীনতা দিবস পালন করি তার প্রাসঙ্গিকতা তাহলে কোথায়? সরকারকে সমালোচনা করলেই যদি মরতে হয়, তাহলে আমাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোথায়?