নিউ ইর্য়ক: করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ফেস মাস্ক নিয়ে নতুন গাইডলাইন দিল হু৷ যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয় সেখানে নন মেডিক্যাল মাস্ক নয়, ত্রিস্তরীয় ফ্যাবরিক মাস্ক পরার পরামর্শ দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা৷

সম্প্রতি রয়টার্স-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হু-র টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ডক্টর মারিয়া ভ্যান কেরখোভ মানুষকে “ফ্যাবরিক মাস্ক অর্থাৎ একটি নন-মেডিকেল মাস্ক” পরার পরামর্শ দিয়েছিলেন৷ কিন্তু হু-র তরফে জানান হয়েছে, এই ফ্যাবরিক মাস্ক গুলিতে যেন কমপক্ষে তিনটি স্তর থাকে৷

শুধু তাই নয়, হু-র পরামর্শ সংম্প্রদায় সংক্রমণ রুখতে ৬০ বছরের বেশি বয়সের এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ তাদের উচিত মেডিক্যাল মাস্ক পরা৷ একই সঙ্গে WHO জোর দিয়েছেন যে, ফেস মাস্কগুলি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ব্যবহার করা যেতে পারে৷ সুতরাং এগুলি তৈরির ক্ষেত্রে যেন মিথ্যার আশ্রয় না-নেওয়া হয়৷ তবে ডক্টর টেদ্রোস পরিষ্কার জানিয়েছেন, ‘নিজের মাস্ক কোভিড-১৯ থেকে আপনাকে রক্ষা করবে না৷’

WHO-এর আগে যুক্তি দিয়েছিল যে, সুস্থ মানুষের মুখোশ পরতে হবে এমনটা নয়৷ তবে শুক্রবার হু-র ডিরেক্টর জেনারেক ডক্টর টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেয়িসাস জানিয়েছেন, “বিকাশের প্রমাণের আলোকে WHO পরামর্শ দিয়েছে যে, যেখানে ট্রান্সমিশনের সম্ভাবনা বেশি এবং শারীরিক দূরত্ব বজার রাখা যেখানে সম্ভব নয়, যেমন পাবলিক পরিবহণ, দোকান-বাজার এবং জনবহুল এলাকায় সরকারের উচিত সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরতে উত্সাহিত করা৷’

করোনা নামক অতি মহামারী সারা বিশ্বে এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে৷ জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুসারে, গত বছরের শেষ দিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৬০ লক্ষের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে৷ আর প্রায় ৪ লক্ষের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে৷

ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন হুহু করে বাড়ছে৷ করোনা আক্রান্তের নিরিখে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে উঠে এল ভারত৷ শনিবার সকাল পর্যন্তও আক্রান্তের সংখ্যা ভারত ছিল ষষ্ঠ স্থানে৷ এবার সেই সংখ্যা পেরিয়ে গেল ২ লক্ষ ৪১ হাজার৷ সেই সঙ্গে  আক্রান্তের দিক থেকে স্পেনকে ছাপিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এল ভারত৷ এর ফলে উদ্বেগ আরও বাড়ল৷ স্পেনে যখন করোন আক্রান্তের সংখ্যা ২,৪০,৯৭৮৷ আর ভারতের আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ২,৪১,৯৭০৷

শনিবার সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, ভারতে শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৯৮৮৭ জন৷ এখনও পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসেবে সর্বাধিক আক্রান্তের সংখ্যা৷ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ২৯৪ জনের৷ এখনও পর্যন্ত ভারতে মোট মৃতের সংখ্যা ৬৬৪২৷ আক্রান্তের দিক থেকে আগের সপ্তাহেই চিনকে টপকে গিয়েছিল ভারত৷ ২৯ মে থেকে প্রত্যেকদিন ৮০০০ বা তার বেশি নতুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সামনে এসেছে৷

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প