স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: রঙকে কেন্দ্র করে এবার দুই রাজ্যের শাসক দলের তরজা৷ তড়িঘড়ি ম্যাসাঞ্জোর জলাধারের নীল সাদা রং করার কাজ বন্ধ করলো ঝাড়খণ্ড সরকার৷ এমনকি বাধের মুখে ওয়েষ্ট বেঙ্গল লেখাটি চটিয়ে তার উপর লেখা হল ঝাড়খন্ড সরকারের নাম। বীরভূমের সেচ দফতরের আধিকারিকেরা রাজ্য সরকারকে বিষয়টি জানাবেন বলে জানা গিয়েছে।

ময়ূরাক্ষী নদীর ওপর ম্যাসাঞ্জোর বাঁধটি ঝাড়খন্ডে অবস্থিত। ১৯৫৫ সালে তৈরি বাঁধটিতে অধিকার আছে বাংলার সরকারের। দুমকা জেলার মধ্যে বাঁধটি পড়লেও জলাধারটিতে জল ধারন থেকে তার রক্ষনাবেক্ষণ, জল ছাড়ার সহ অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয় বাংলার সরকারকে। বীরভূমের জেলা সদর সিউড়ি থেকে ওই জলাধারের নিয়ন্ত্রন রাখা হয়।

সম্প্রতি ম্যাসাঞ্জোরের জলাধার সংলগ্ন সেচ দফতরের আবাসনের ১৮টি ঘর,বাঁধের মেরামতি ও তার রঙের কাজ শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য বাঁধ রক্ষনাবেক্ষনের জন্য ১ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে। ইতিমধ্যে সেচ দফতরের অধীন ওই আবাসন গুলির নীল সাদা রঙ করে ঠিকাদার সংস্থা। কিন্তু বাঁধের নীল রঙ করা শুরু হতেই বাধা দেয় স্থানীয় বিজেপির কর্মী থেকে নেতারা।

দুমকার বিজেপি নেতা, কর্মীদের দাবি তৃণমূলের সরকার সবেতেই নীল সাদা রঙ লাগাচ্ছে। কিন্তু ঝাড়খন্ডে ওই জলাধারের রঙ সাদা করতে হবে৷ আপাতত তাই রঙ করা বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারি সংস্থা৷ অন্যদিকে, বাধের মুখে চড়াই ওঠার কাছে রাস্তার বাঁ দিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিশ্ববাংলা লোগো চটিয়ে তার ওপর ঝাড়খন্ডের লোগো লাগানো হয়েছে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নামের ওপরও লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে ঝাড়খন্ডের নাম।

এই প্রসঙ্গে ঝাড়খন্ডের দুমকার বিজেপি জেলা সভাপতি নিবাস মন্ডল বলেন, ‘‘রাস্তা করেছে ঝাড়খন্ড সরকার। সেখানে তৃণমূল সরকারের লোগো লাগাতে দেওয়া হবে না।’’ পাল্টা তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতির বক্তব্য, ‘‘বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভয় পাচ্ছেন। তাই নীল সাদা থেকে সবেতেই জুজু দেখছে। ঝাড়খন্ডের উন্নয়ন করে দিচ্ছে দিদি। আর তাতে লোগো লাগাচ্ছে বিজেপি। এইভাবে চলতে পারে না।’’