স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনআরসি বিরোধী অবস্থান নিয়ে কলকাতার রাস্তায় হেঁটেছেন। কিন্তু, সেই দিনই সিঙ্গুর থেকে বামপন্থি ছাত্র-যুব’রা শিল্প এবং কর্মসংস্থান চেয়ে নবান্নের দিকে রওনা দিয়েছে। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার সিঙ্গুর থেকে পায়ে হেঁটে মিছিল পৌঁছবে নবান্নে। উত্তর চাইবে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে – সিঙ্গুরে ঠিক কি হয়েছে? শিল্প না কৃষি। যে সিঙ্গুরে জমিকে রক্ষ করার দোহাই দিয়ে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেখান তার সরকার কী সদর্থক ভূমিকা নিয়েছে? যে জমি চাষিরা ফেরত পেয়েছেন, সেখানে কি আদৌ ভালো চাষ হতে পেরেছে। সেখানে কি আগামী দিনে কোনও শিল্প হওয়া সম্ভব?

বামপন্থী ছাত্র যুব সংগঠনগুলি রাজ্যে শিল্প, কর্মসংস্থান, বেকার ভাতার দাবিতে নবান্ন অভিযান শুরু করে দিয়েছে ইতিমধ্যেই। সিঙ্গুরের বুড়োশান্তি ময়দান থেকে হাজার হাজার ছাত্র যুবর মিছিল শুরু হয়ে গিয়েছে। হুগলির সিঙ্গুর থেকে পথ চলা শুরু হয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর নবান্ন অভিযান হবে। মূল লক্ষ্য, পুলিশের ব্যারিকেট ভেঙে এগিয়ে যাওয়া। প্রশাসনের কাছে জিজ্ঞাসা করা, সিঙ্গুরে কি হবে? বেকার কাজ পাবে কী?

ডিওয়াইএফআই, এসএফআই, যুবলীগ সহ ১২ টি ছাত্রযুব সংগঠনের দাবির কথা জানিয়েছেন সায়নদীপ মিত্র। সায়নদীপ ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক। মূল দাবি, “রাজ্যের তৃনমূল কংগ্রেস সরকারকে শিল্পায়ন ও বেকারত্বের প্রশ্নে জবাব দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে বসে আছেন। তাঁকে জবাব দিতে হবে যে সিঙ্গুরের কি হবে? সিঙ্গুরের মানুষের কাছে জবাব দিতে হবে।”

আরও দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে বেকার ভাতা দিতে হবে। উনি কারও বেতন বাড়াচ্ছেন। কিন্তু বেকারদের কি হবে। কলেজে-কলেজে ভর্তি নিয়ে চলেছে কাটমানি খাওয়া। কলেজের এই পরিবেশ চলতে পারে না। শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষক মার খাচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনের মধ্যেই শিক্ষিককে মারধরের ঘটনা সকলকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মিছিলের স্লোগানে উঠে আসবে এই ঘটনাগুলিও। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাস্তায় নেমেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এন আর সি বিরোধী প্রচারের মাঝেই নবান্নর দিকে রওনা হয়েছে বাম ছাত্র-যুবরা।

মুম্বই-নাসিক লং-মার্চের মতো না হলেও বিপুল ছাত্র ছাত্রী ও মিছিলে হাঁটছেন । সংখ্যাটা বলা মুশকিল, জানাচ্ছে ছাত্র যুব সংগঠনগুলি। ২০১৮ সালে কৃষক নেতা হান্নান মোল্লা, অশোক ধাওয়ালের নেতৃত্বে নাসিক-মুম্বই লং-মার্চ শুরু করে কিষান সভা। ৩০-৪০ থেকে হাজার কৃষক, খেতমজুর ও আদিবাসী লং-মার্চে অংশগ্রহণ করেন। প্রায় দু’শো কিলোমিটার পথ পেরিয়ে লং-মার্চ মুম্বই পৌঁছবে। সারা ভারতকেই যা কাঁপিয়ে দিয়েছিল। রাজ্যে বামপন্থি ছাত্র যুবর মিছিলকে সেই জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

শিক্ষার খরচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গরিব ছাত্ররা কিভাবে পড়াশুনো করবে খেয়াল নেই সরকারের। আওয়াজ উঠেছে।