মহাভারতের নারী চরিত্র দ্রৌপদী কেন্দ্রিক হলেও এমন আরও কয়েকজন ছিলেন যাঁরা অত্যন্ত দৃঢ় চরিত্রের৷ তাঁদের চরিত্রের গভীরতা ও সাহসিকতা আলাদা করে বলার মতো৷ এই নারীদের মধ্যে অন্যতম গঙ্গা৷

মহাভারত থেকে জানা যায়, শান্তনু আর গঙ্গা ব্রহ্মার শাপে স্বর্গচ্যুত হয়ে মর্ত্যে জন্মগ্রহণ করেন। একদিন হস্তিনাপুরের রাজা শান্তনু মৃগয়া করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গঙ্গার পাড়ে বসে পরেন৷ তখনই দেখতে পান গঙ্গাকে৷গঙ্গার রূপে মুগ্ধ হয়ে প্রেমে পড়ে যান রাজা শান্তনু৷ গঙ্গাকে তিনি বিবাহের প্রস্তাব দেন৷তখনই গঙ্গা তাঁকে জানান তাঁর তিন শর্ত মানলে তবেই তিনি রাজা শান্তনুকে বিয়ে করবেন৷

এই তিন শর্ত হল- এক, রাজা তাঁর(গঙ্গা দেবীর) কোনো বংশপরিচয় জানতে চাইবেন না, দুই, তার কোনো কাজের ব্যাখ্যা জানতে চাইবেন না, তিন, তার কোনও কাজে রাজা বাধা দিতে পারবে না।এই তিন শর্তের মধ্যে যদি একটি শর্তেরও লঙ্ঘন করা হয় তাহলে তিনি রাজমহল ছেড়ে চলে যাবেন।

গঙ্গার রূপে রাজা শান্তনু এতটাই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন যে গঙ্গার সেই তিন শর্তে রাজি হয়ে যায়৷ বিবাহ হয় তাঁদের৷ এরপর রাজা দেখেন যে এক একটি পুত্র জন্ম নিলে তাঁর স্ত্রী তাদের গঙ্গা নদীতে ভাসিয়ে আসেন। পর পর সাত বার এই কষ্ট সহ্য করার পর অষ্টমবার আর থাকতে না পেরে প্রতিবাদ করলেন রাজা। তখন গঙ্গাদেবী নিজের পরিচয় দিয়ে শর্তানুযায়ী বিলীন হয়ে যান। পুত্র বড় হলে ফেরত দেবেন বলে প্রতিজ্ঞা করে সঙ্গে পুত্রকেও নিয়ে যান।