নয়াদিল্লি: ইকুয়েডরের একটি ব্যক্তিগত দ্বীপে রয়েছেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু স্বামী নিত্যানন্দ। সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী জানা যায় ওই দেশেই রয়েছেন ধর্ষণে অভিযুক্ত ‘গডম্যান’। কিন্তু শুক্রবার ইকুয়েডর সরকার একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে তাঁদের দেশে নেই স্বামী নিত্যানন্দ। এই বিষয়ে বিবৃতিতে ইকুয়েডরের প্রশাসন জানায়, ‘নিত্যানন্দ ইকুয়েডরে আশ্রয় নেয় নি। ইকুয়েডর সরকারও নিত্যানন্দকে দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডরের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কোনও ধরনের দ্বীপ কিনতে সাহায্য করেনি।’

গত ৩ ডিসেম্বর একটি সূত্র মারফত খবর পাওয়া যায় ভারত থেকে পালিয়ে আস্ত একটি দ্বীপই কিনে ফেলেছেন এই স্বঘোষিত ‘গডম্যান’। এই দ্বীপের নাম রেখেছেন ‘কৈলাস’। এই দ্বীপটি মূলত ত্রিনিদাদ এবং টোবাগোর কাছে অবস্থিত। হিন্দু সার্বভৌম এই দেশে অর্থদান করলেই মিলবে নাগরিকত্বের সুযোগ।

এই নয়া দ্বীপ নিয়ে রয়েছে একটা ওয়েবসাইটও। এই ওয়েবসাইটে লেখা রয়েছে, ‘কৈলাস একটি অরাজনৈতিক দেশ। এই দেশের মূল উদ্দেশ্য প্রতিটি মানুষকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করা। এই লক্ষ্যে পৌঁছতে গেলে প্রয়োজন প্রকৃত হিন্দু ধর্মের অভ্যাস। আগে আফগানিস্তান,ভারত থেকে সিঙ্গাপুর,মালয়শিয়া ৫৬টি দেশে এই হিন্দু ধর্ম পালিত হত। কিন্তু, এখন এই প্রকৃত হিন্দু ধর্ম হারাতে বসেছে।’

এই ওয়েবসাইটের মতে ‘কৈলাস’ কোনও সীমানা ছাড়া একটি দেশ। এইখানে সারা বিশ্বের হিন্দুরা আসতে পারেন যারা হিন্দু ধর্ম পালন করার অধিকার হারিয়েছেন। এই দেশে মোট ১০টি দফতর রয়েছে। একটি দফতর সম্পূর্ণ স্বামী নিত্যানন্দ পরমাশিবমের উপর নিবেদিত। অন্য একটি অফিস রয়েছে ওই দেশের সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনের অফিস। একটি অফিস রয়েছে বিভিন্ন সোশ্যাল এবং ডিজিটাল মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য। এছাড়াও গৃহমন্ত্রক, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং শিক্ষার মত বিষয় রয়েছে।

ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রসংঘের কাছে ‘কৈলাস’কে স্বাধীন দেশের স্বীকৃতি দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে ওই দেশের আইন মন্ত্রক। ওই আর্জিতে নিজেকে অসহায় বলে হিন্দুধর্ম পালন এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যেই তাঁকে ভারত ছাড়তে হয়েছে বলে ওই আর্জিতে লিখেছেন তিনি।
নিত্যানন্দের ভারতীয় পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে গত ৩০ অগস্ট। এরপর পাসপোর্ট নবীকরণের আর্জি জানালেও তা প্রত্যাখাত করেছে ভারত। এরপরেই মধ্য আমেরিকার ওই দেশে পাকাপাকিভাবে থাকার জন্য নাগরিকত্বের আবেদন জানিয়েছেন নিত্যানন্দ।
রিপাবলিক টিভি সূত্রে খবর নিত্যানন্দ ভারত থেকে পালিয়ে প্রথমে নেপালে যায়। সেখান থেকে ভুয়ো ভেনেজুয়েলার পাসপোর্ট নিয়ে হাজির হয় ওই ব্যক্তিগত দ্বীপে।

গত বছর থেকেই একের পর এক ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন এই ধর্মগুরু। আপাতত জামিনে মুক্ত নিত্যানন্দ হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে যান। গত এক বছরে প্রায় ৪৩টি কোর্টের হাজিরার নোটিস উপেক্ষা করেছেন নিত্যানন্দ। আর এই নতুন ছবি সামনে আসতেই শুরু হয়েছিল প্রবল জল্পনা। কিন্তু তা নস্যাৎ করে দিয়ে এ দিন এই বিবৃতি প্রকাশ করেছে ইকুয়েডর প্রশাসন।