স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: রণে-বনে-জলে-জঙ্গলে, যেখানেই বিপদে পড়বে আমায় স্মরণ করবে৷ অনেকটা এরকম ভাবেই রাজ্যের মানুষকে অভয়বানী দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বুধবার সাগরদিঘিতে গিয়ে বললেন, যখনই মনে দুঃখ আসবে আমার মুখটা মনে করবেন৷ ভাববেন দিদি আছে যখন চিন্তার কি আছে?

এদিন সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে এনআরসি নিয়ে ফের একবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানিয়েছেন, সারা দেশে এনআরসি হবে। অমিত শাহ বলেন, “দেশজুড়ে এনআরসি হবে। এখানে ধর্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদের কোনও জায়গা নেই। সকল নাগরিকের নামই ওই তালিকায় থাকবে। এটা মাথায় রাখতে হবে যে, নাগরিকপঞ্জি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এদের গুলিয়ে ফেললে হবে না।”

তার পরেই মুর্শিদাবাদের সাগরদীঘিতে এনআরসির বিরুদ্ধে সরব হন মমতা। তিনি বলেন, “কিছু লোক বদমায়েশি করে এনআরসির নাম করে নানা ভাবে উত্যক্ত করছে আপনাদের। একটা কথা মনে রাখবেন, বাইরের আমদানি করা কোনও নেতার কথা বিশ্বাস করবেন না। সে হিন্দুই হোক, মুসলমানই হোক। বিশ্বাস করবেন আমরা যারা মাটিতে থেকে লড়াই করি, তারা আপনাদের পাশে আছি। বাংলায় এনআরসি হবে না। চিন্তা করার কোনও কারণ নেই। আপনারা প্রত্যেকে এ দেশের নাগরিক। একটা লোককেও এখান থেকে বিতাড়িত করতে দেব না।”

এদিন সাগরদিঘির সভা থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের জন্য আরও এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। সভা সেরেই তিনি পৌঁছে যান বাহালনগরে, জম্মু-কাশ্মীরের কুলগামে জঙ্গিদের গুলিতে নিহত শহিদ শ্রমিকদের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন ৫০ হাজার টাকা।

সাগরদিঘিতে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কাশ্মীর থেকে চলে আসা প্রত্যেক শ্রমিককে বাংলা আবাস যোজনায় পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যাতে তাঁরা নতুন করে জীবিকা শুরু করতে পারেন, তার জন্য আরও ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যও দেবে রাজ্য সরকার।