স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শান্ত হয়ে যাবে দিল্লি। দেশের রাজধানীর পরিস্থিতি সম্পর্কে এভাবেই ভবিষ্যতবাণী করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ‘কাশ্মীরে উপদ্রবকারীদের সরকার ঠান্ডা করেছিল যেভাবে। দিল্লিতেও সবাইকে ঠান্ডা করবে এই সরকার।’ বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যে ফের নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার থেকে লাগাতার হিংসার ঘটনায় উত্তপ্ত দিল্লি। উন্মত্ত জনতার রোষ থেকে বাদ যাচ্ছে না সমাজের কোনও অংশের মানুষই। প্রাথমিকভাবে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ালেও পরে তাদের ‘টার্গেট’ হয়ে উঠেছে পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী৷ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বৈদ্যুতিন মাধ‌্যমের কর্মী। মৃতের সংখ‌্যা ক্রমশ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যবাসীর কাছে আইশৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যেক থানাকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক বৈঠকে বেফাঁস মন্তব্য করলেন দিলীপ ঘোষ৷

তিনি বলেন, ”এই সরকার একদম উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর উপদ্রবকারীদের ঠান্ডা করেছিল। এবার দিল্লিতেও সবাইকে ঠান্ডা করবে সরকার। কোনও চিন্তা করতে হবে না। সরকার ব্যাপারটা আয়ত্তে আনছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শান্ত হয়ে যাবে দিল্লি।”

মঙ্গলবারই সাংবাদিক বৈঠক করে দিল্লির অশান্তি নিয়ে প্রথম মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “যারা পুলিশকে পাথর মারছে, তাঁদের সঙ্গে আরও কড়া আচরণ করা উচিত।” সংঘর্ষে মৃত্যু প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যারা পুলিশকে পাথর মারছে, গুলি করছে তাদের কি ডেকে চা খাওয়ানো উচিত ছিল?” এই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, এমনটাই দাবি তাঁর। জামিয়া প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “জামিয়ায় পুলিশ ঢুকে দশজনকে গ্রেফতার করেছিল, তারা কেউ ছাত্র ছিল না। অথচ গোটা দেশে তুলকালাম হয়ে গেল। আর আজকে যখন তারাই আগুন জ্বালাচ্ছেন, তখন বিরোধী নেতারা দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন! কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে প্রশাসনকে।”

এদিকে, কলকাতায় অমিত শাহ পা রাখলে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাম ছাত্র-যুব সংগঠন। দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, “বিক্ষোভ দেখানোই ওদের পেশা। ছোটবেলা থেকে বিক্ষোভই দেখে গেলাম।”