নয়াদিল্লিঃ লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর প্রশ্ন দেশে সতীদাহ প্রথা যদি নিষিদ্ধ করা যেতে পারে, তাহলে মুসলিম নারীদের সম্মান রক্ষার্থে তিন তালাক প্রথা কেন নিষিদ্ধ করা যাবে না? ৭৩ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে এদিন লাল কেল্লায় দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলম করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মোদী সরকারের দ্বিতীয় পর্বে বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এর মধ্যে যেমন রয়েছে কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার, তেমনই রয়েছে দেশ থেকে তিন তালাক প্রথার বিলুপ্তির মত সিদ্ধান্ত। যার জন্য মোদী সরকারকে রীতিমত কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। পূর্ববর্তী কেন্দ্র সরকারগুলির সামনে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন মোদী। তিনি জানতে চেয়েছেন, কেন স্বাধীনতার ৭২ বছর পরেও তিন তালাকের মত বৈষম্যমূলক প্রথা বন্ধ করা গেল না? তাঁর প্রশ্ন হিন্দু সমাজে যদি সতীদাহ প্রথা, কন্যা ভ্রূণ হত্যা ও বাল্যবিবাহের মত নিয়মগুলো আইন করে বন্ধ করা যায়, তাহলে তিন তালাক নয় কেন?

মোদী এদিন জানান, তিন তালাকের মত প্রথার জন্য বহু মুসলিম নারী অন্ধকারময় জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁদের কথা কেন ভাবা হল না, প্রশ্ন তুলেছেন মোদী। মোদী এদিন আরও বলেন, যদি মুসলিম রাষ্ট্রগুলিই তিন তালাক প্রথাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে, তাহলে ভারতও সেই পথে হাঁটার ক্ষমতা রাখে। মোদী সরকার সেই পথেই হেঁটেছে। তিন তালাকের মতো অন্ধকারময় প্রথার শেষ হওয়া উচিত। উল্লেখ্য চলতি বছরের অগাষ্ট মাসেই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এি বিলে সম্মতি দেন।

রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনে পরিণত হয়ে যায় তিন তালাক বিলটি। যার ফলে কোনও মুসলিম পুরুষ তাঁর স্ত্রীকে তাত্‍ক্ষণিক তিন তালাক দিলে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে জেল খাটতে হবে। এই আইনে সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। বিতর্কিত এই বিলটি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই সংসদে উত্তাল হয়েছে। প্রথমবার নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় এসে তাত্‍ক্ষণিক তিন তালাক বিল লোকসভায় পাস করে। পরে রাজ্যসভাতেও পাশ হয়ে যায় সেই বিল। ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে তাৎক্ষণিক তিন তালাক। রাজ্যসভায় এই বিলের পক্ষে ৯৯টি ভোট পড়ে৷

যেখানে বিপক্ষে ভোট পড়ে ৮৪টি৷ তিনবার পরপর তালাক বলে ডিভোর্স দেওয়ার রীতি মুসলিম ধর্মে রয়েছে, তাকেই এই বিলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। এদিন মোদী তাঁর ভাষণে কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা ও আর্টিকল ৩৫এ প্রত্যাহারের বিষয়ে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এক দেশ এক সংবিধান আক্ষরিক অর্থে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ৭০ বছরে ভারতের অর্থনীতি ২ ট্রিলিয়নে পৌঁছেছিল। আর পাঁচ বছরে ২ থেকে ৩ ট্রিলিয়ন হয়ে গিয়েছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কথা বলেন তিনি। বলেন, নাহলে ভবিষ্যতে অনেক সমস্যা দেখা দেবে। যারা ছোট পরিবারে বিশ্বাস করে, তারা দেশের উন্নয়নে নিজেদের অবদান রাখছেন। তাই এটাও একরকম দেশপ্রেম।