সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : বেশি নয় বছর আটেক আগেও তিনি চুটিয়ে ক্রিকেট খেলতেন। ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আইপিএল সবেতেই তিনি খেলেছেন। বিরাট কোহলির সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ক্রিকেট মাঠেই। তাঁর বয়স এখনও ত্রিশের কোঠায় পৌঁছায়নি। কিন্তু সেই ক্রিকেটারই এখন ক্রিকেটের কিট তুলে রেখে একদম রাজনীতির ময়দানে। ২০১৯ লোকসভায় মহাজোটের জল্পনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম সঙ্গী। তিনি লালু প্রসাদের ছেলে তেজস্বী যাদব।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তেজস্বী। মূলত পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বাবা লালু প্রসাদ নির্বাচনে আর দাঁড়াতে পারবেন তিন বছর, আদালতের এমন রায় জানিয়েছিল। এরপরেই দুই ছেলে তেজপ্রতাপ ও তেজস্বীকে নির্বাচনে দাঁড় করান তিনি। আর তখনই ধীরে ধীরে ক্রিকেট থেকে দূরে সরতে থাকেন তেজস্বী যাদব। তবে তার পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ার বেশ সংক্ষিপ্ত। সাকুল্যে প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছেন একটি, দুটি ‘লিস্ট এ’ ক্যাটাগরির ম্যাচ আর চারটি টি২০।

রঞ্জি ট্রফিতে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ঝাড়খণ্ডের হয়ে। ২০০৯ আইপিএলে মরসুমে ‘দিল্লি ডেয়ারডেভিলস’-এর রোস্টারে ছিলেন তিনি। তবে মাঠে নামা হয়নি। তবু দলে থাকার সুবাদেই পেয়েছেন ৩ কোটি টাকা। ২০১২ সাল পর্যন্ত দিল্লির আইপিএল দলে ছিলেন।

বিহারের এক সময়ের মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতের ডাকসাইটে রাজনীতিবিদ লালু প্রসাদ যাদব তাঁর বাবা ছেলে তেজস্বীর ক্রিকেট নিয়ে রসিকতা করে বলেছিলেন, “আমার ছেলেটা অন্তত খেলোয়াড়দের জল বওয়ার সুযোগ তো পাচ্ছে”। ২০০৯ সালে ভারতের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকের পর খেলাটি থেকে এটুকুই যা তুলে নিতে পেরেছেন লালুপুত্র তেজস্বী যাদব। তবে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের দলে তেজস্বী যাদবের সুযোগ পাওয়া নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ডিডিসিএ-র এক কর্তা প্রাক্তন ক্রিকেটার অতুল ওয়াসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন তেজস্বী যাদবকে অর্থের বিনিময়ে দিল্লির দলে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

রাজনীতির ময়দানে আসার পরেও আইপিএলের সময় তোলা এক পুরনো ছবি তাঁকে বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিল। ২০১৭ সালে এক স্বল্পবসনা নারীর সঙ্গে নিজের ছবি টুইটারে পোস্ট করেছিলেন তিনি। এতেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল। টুইটারে ওই ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘অনেকে ক্রিকেট খেলার সময় আমার কোনও ছবি ছবি পোস্ট করতে বলছিলেন। ২০১০ সালে আইপিএল-এর পোস্ট-ম্যাচ পার্টিতে সম্ভবত এই ছবিটি তোলা হয়েছিল। নীতীশজী যদি এই ছবি দেখিয়ে আমার চরিত্র হনন করতে চান, ওঁর প্রতি ঈশ্বরের আশীর্বাদ রইল।’’

নীতীশ কুমারের সঙ্গে জোট ভাঙার পর বিহারে তেজস্বী বিরোধী নেতা হন। সম্প্রতি হাজির ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইউনাইটেড ইন্ডিয়ার মঞ্চে। সবথেকে আকর্ষণীয় ছিল তেজস্বীর বক্তব্যই। রাজীব কুমার কাণ্ডের সময় যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলায় মঞ্চ বেঁধে প্রতিবাদ করছিলেন সেখানেও হাজির হয়েছিল তেজস্বী।