তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: চৌকাঠে পঞ্চায়েত ভোট৷ কেমন আছে বাঁকুড়ার জঙ্গল মহল? জঙ্গল মহল কি সত্যিই হাসছে? বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কের পিরলগাড়ি মোড় থেকে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার পিচের রাস্তা ধরে কিছুটা এগিয়ে জঙ্গল পথ ধরে পৌঁছালাম সারেঙ্গার নেতুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম পড়্যাশোল৷

গ্রামে ৫০ টি পরিবারের বাস৷ রয়েছে পানীয় জলের দুটি নলকূপও৷ কিন্তু সেগুলি অচল। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পঞ্চায়েতকে একাধিকবার জানিয়েও সমস্যার সুরাহা হয়নি৷

অগত্যা, বাধ্য হয়ে ঝর্ণার জলই খেতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রামবাসীরা। সেই জলেই স্নান, বাসনপত্র ধোয়া এমনকি গৃহপালিত পশুদের স্নান-খাওয়াও সারতে হচ্ছে৷ ক’দিন আগেই সারেঙ্গার এই নেতুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসেই জলের দাবিতে তালা ঝোলান অন্য এক গ্রামের মহিলারা। তারপর তড়িঘড়ি ঐ গ্রামে পানীয় জলের সাব মার্সিবল বসানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে পঞ্চায়েত। কিন্তু পড়্যাশোল গ্রামের মানুষ রণংদেহী পথে হাঁটেননি বলেই কি আজও তারা অবহেলিত? এই প্রশ্নই এখন ঘোরা ফেরা করছে জঙ্গলমহলের আদিবাসী অধ্যুষিত এই গ্রামটিতে।

গ্রাম থেকে বেশ কিছুটা দূরে ঝর্ণা৷ সেখানে জল সংগ্রহ করছিলেন হেমা মুর্ম্মু, অনিমা মুর্ম্মুরা। বললেন, ‘‘পঞ্চায়েতে বার বার অনুরোধ করেও পানীয় জলের সমস্যা মেটেনি৷ ফলে উপায়ন্তর না থাকায় ঝর্ণার জলই আমাদের ভরসা।’’ বলছেন, ‘‘পঞ্চায়েত থেকেও নেই৷ ফলে গোরু-মোষ-মানুষ সবারই ভরসা এই ঝর্ণার জল!’’

তবে ঝর্ণার জল সংগ্রহে রয়েছে অনেক ঝুঁকিও৷ তাঁরা জানান, ঝর্ণার জল সংগ্রহে এসে কয়েকদিন আগে এক বৃদ্ধা পড়ে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়েছিলেন৷ গ্রামের বাসিন্দা কলেজ পড়ুয়া সময় হেমব্রমের অভিযোগ, ‘‘ভোট আসে ভোট যায়। জঙ্গল মহলের প্রত্যন্ত এই পড়্যাশোল গ্রাম থাকে অন্ধকারেই। ভোটের সময় নেতারা গ্রামে এসে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিলেও ভোট ফুরলে সবাই আমাদের ভুলে যায়৷’’

পড়্যাশোল গ্রাম থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে মাথায় হাঁড়ি-কলসী নিয়ে জল সংগ্রহ করেন গ্রামের আদিবাসী মহিলারা। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা, এটাই তাঁদের বারমাস্যা৷ এদিকে অপরিশ্রুত ঝর্ণার জল খেয়ে গ্রামের বাসিন্দাদের পেটের রোগের সমস্যাও দিন দিন বাড়ছে বলে অনেকে জানিয়েছেন। কিন্তু এই গ্রামের পঞ্চাশটি আদিবাসী পরিবার কবে পরিশ্রুত পানীয় জল ব্যবহারের সুযোগ পাবেন তা সঠিক করে বলতে পারছেন না কেউই। যদিও নেতুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান দীপালি দুলে বলেন, ‘‘পড়্যাশোল গ্রামের পানীয় জলের সমস্যার কথা জানা ছিল না। দ্রুত সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করব৷’’

আশ্বাস কবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন বাসিন্দারা৷