নয়াদিল্লি: শেষকৃত্য সম্পন্ন৷ চলে গিয়েছেন প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ৷ কিন্তু মোদীর প্রথম সরকারের আমলে যে গুরুত্বপূ্র্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি, সেই সময় পদের খাতিরে একাধিক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল তাঁকে৷

তাঁর স্মৃতিচারণায় অনেক কথা, অনেক প্রসঙ্গ উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে৷ আয়রন লেডি নামে পরিচিত সুষমা চিরকাল কাজের ক্ষেত্রে কোনও আপোষ করেননি৷ সেজন্য তাঁকে অপ্রিয় সত্য কথাও বলতে হয়েছে৷ তবে কখনও পিছপা হননি তিনি৷

বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় সুষমা প্রসঙ্গে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী৷ তিনি বলেছিলেন কীভাবে সুষমা স্বরাজ জোর করে তাঁকে লিখিত ভাষণ পড়তে বাধ্য করেছিলেন দেশের স্বার্থে, নিয়মনীতির কথা মাথায় রেখে৷ অক্ষয় কুমারের সঙ্গে কথা বলার সময় মোদী তুলে আসেন ২০১৪ সালের একটি ঘটনার কথা৷

আরও পড়ুন : এক পাকিস্তানিও চেয়েছিলেন সুষমা হোক তাঁদের প্রধানমন্ত্রী

মোদী বলেন ২০১৪ সালর সেপ্টেম্বরে তিনি রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে গিয়েছিলেন৷ সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও৷ সেটাই ছিল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রসংঘে মোদীর প্রথম ভাষণ৷ স্মৃতির অতলে ডুব দিয়ে মোদী বলেন আমি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলাম নিজের ভাষণ নিয়ে৷ ভেবেছিলাম না পড়াশুনা করে, কিছু না দেখে বা লিখেই ভাষণ দিতে পারব৷ যখন রাষ্ট্রসংঘে পৌঁছই, সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুষমাজী৷ তিনি ভাষণের ফ্রেমওয়ার্কের কথা জিজ্ঞাসা করেন৷ তখন আমি বলি মাথায় সব রাখা আছে, সেখান থেকেই ভাষণ দেব৷ তা শুনে বেশ ক্ষুব্ধ হন সুষমাজী৷ তিনি বলেন এটা নিয়ম নয়৷ আপনার এই সিদ্ধান্ত মানতে পারছি না৷ আপনাকে লিখিত ভাষণই পড়তে হবে৷

মোদী বলেন তিনি সুষমাজীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন৷ কিন্তু নিজের বক্তব্যে অনড় ছিলেন সুষমা৷ পরিষ্কার প্রধানমন্ত্রী মোদীকে জানিয়ে দেন “ইসমে আপকি নেহি চলেগি, আপকো মাননা হি পড়েগা”৷ মোদী বলেন এর থেকেই বোঝা যায় নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে কতটা সচেতন ছিলেন সুষমা স্বরাজ৷ প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তাঁদের দুজনের মধ্যে এই ইস্যুতে বাদানুবাদ চলে৷ অবশেষে মোদীকেই হার মানতে হয়৷

আরও পড়ুন : 1975 A Love Story, এমারজেন্সির সময় বিয়ে করেছিলেন সুষমা-স্বরাজ

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় লিখিত ভাষণই পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী৷ পরে অবশ্য স্বীকার করেছিলেন, বেশ অসুবিধায় পড়তে হয়েছিল তাঁকে৷ এই সাক্ষাতকার দেখার পর মোদীকে ট্যুইট করেছিলেন সুষমা৷ জানিয়ে ছিলেন তাঁর প্রসঙ্গ তোলায় আনন্দিত হয়েছেন তিনি৷ তবে বুধবার থেকে সবই চলে গেল ইতিহাসের পাতায়৷ স্মৃতি হয়েই থেকে গেলেন সুষমা৷