শেখর দুবে, কলকাতা: পুলওয়ামার ঘটনার পরই সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিবৃতি দেন যে রাজ্যে বিজেপি, আরএসএস ও বিশ্বহিন্দুপরিষদের মতো হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি রাজ্যে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা প্রশ্ন তুলল বিশ্বহিন্দুপরিষদ। তাদের প্রশ্ন অন্যরা মত প্রকাশ করলে গণতান্ত্রিক, আমরা করলেই সাম্প্রদায়িক হয় কীভাবে?

পুলওয়ামা জঙ্গিহানার পরবর্তী সময়ে সেনা ও দেশের বিরুদ্ধাচারণ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে একাধিক পোস্ট হয়। সেই পোস্টের বিরোধিতা করেও আবার পোস্ট করেন অনেকে। অনেকে পোস্টদাতাদের বাড়িতে গিয়ে তাদের ক্ষমা চাওয়ান। এরপরই রাজ্যের পুলিশকে কড়া হওয়ার নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে প্রেক্ষাপটে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তরফে প্রেস বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, “সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী যা বলছেন তা উনি নিজেই জানেন না। পুলওয়ামা জঙ্গি হানার পর কোনো মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলন করে শ্রদ্ধাঞ্জলী ও জায়গায় জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত ঘটনাকে আরএসএস-বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে কটূক্তি করেনি । কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কেন? অন্যরা মতপ্রকাশ করলে তা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার বলে মনে করা হয় কিন্তু আরএসএস-ভিএইচপি করলে তা সাম্প্রদায়িক?”

ভিএচপির তরফে আরও বলা হয়, “পুলিশমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী হয়ে কেন এই অপপ্রচার? সঙ্ঘ -ভিএইচপি কোনদিন মানুষকে ঘৃণা করতে শেখায় না। সাম্প্রদায়িকতার রং চড়িয়ে এদের দাঙ্গাবাজ বলে সম্বোধন করে সত্যিকারের যারা দাঙ্গাকে সমর্থন করে তাদেরকে উস্কানো হচ্ছে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কিছু না বলে সঙ্ঘ-ভিএইচপির বিরুদ্ধে দোষারোপ করে পরোক্ষভাবে জঙ্গিদের আড়াল করার চেষ্টা তিনি কেন করছেন??সেনাবাহিনী আধিকারিকদের কর্তব্যের অবহেলার কথা বলে তাদের অপমান করেছেন । আরএসএস-ভিএইচপি দেশজুড়ে যারা জাতীয়তাবাদী সংগঠন হিসেবে পরিচিত তাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের দায়িত্বশীল ব্যক্তির মন্তব্য সত্যি দুর্ভাগ্যজনক।”