সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: কষ্ট করলে শুধু কেষ্টই মেলে না,’মমতা’র আশীর্বাদও মেলে। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভালোবাসা। প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো মিষ্টি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি এটাই। রয়েছে অনেক ইতিহাস অনেক গল্প, তবু মমতার মমতা যেন একটু বেশী মনে রাখার।

শুরু হয়েছিল অতি সাধারণভাবে। হাওড়ার উলুবেড়িয়া অঞ্চল তখন অন্যতম বন্দর এলাকা। ব্যবসা বানিজ্যের নিয়মিত স্থান। সেখানেই মিষ্টির ব্যবসা খুলে বসলেন শ্রীশ ময়রা। সেই সময়ের মিষ্টি বলতে গুড়, মণ্ডা, তিলে খাজা, কদমা। ভালোই ব্যবসার পসার হয়েছিল। পড়ে ব্যবসা নিয়ে উঠে এলেন খিদিরপুর অঞ্চলে। খিদিরপুর অঞ্চল তখন বেশিরভাগ বন জঙ্গলে ঢাকা। জনবসতি হাতে গোনা। এখানেও সামনেই গঙ্গা, তাই কিছু নৌকা চলাচল করত।

ব্যবসা চলছে, নাম জেনেছে কিন্তু পয়সা কড়ি হাতে আসে না। পারিবারিক অবস্থা একই থেকে যায়। সময় এগোয় মিষ্টির ব্যবসার দায়িত্ব আসে নগেন্দ্র দাস মোদকের হাতে। একদিকে মিষ্টির ব্যবসা অপরদিকে চলছে শিক্ষকতাও। তবে ব্যবসা চলে কোনওগতিকে। ততদিনে গঙ্গা দিয়ে বহু জল বয়ে গিয়েছে। জাপানি বোমার ভয়ে খিদিরপুর ডক অঞ্চল থেকে দোকান পাতার ছাউনি দেওয়া দোকান উঠে আসে গার্ডেনরিচ এলাকায়।

অপরদিকে মিষ্টির ব্যবসা প্রায় চলেই না। নগেন্দ্রের ভাইপোর পড়াশোনায় বিশেষ মন ছিল না। মিষ্টি তৈরির রক্ত যে বইছে তাঁর শরীরে। সতীশ ময়রার বর্তমান কর্ণধার সম্রাট দাস বলেন। বাগবাজারের রসগোল্লা উৎসবে হাজির হয়েছে তাঁর মিষ্টি প্রতিষ্ঠানও। তিনি বলেন, “সতীশ চন্দ্র দাস অর্থাৎ আমার দাদু নতুন করে মিষ্টির ব্যবসা শুরু করলেন। এমনই এক দিন পিঠে পুলি বানাতে গিয়ে পুলি একটু বেশিক্ষণ দুধে রেখে দিতেই অন্যরকম স্বাদ তৈরি হয় এবং যাত্রা শুরু ক্ষীরপুলির। সেটাই বিখ্যাত হয়ে যায়।”

কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য কিভাবে? সম্রাট দাস বলেন, “তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা থেকে সদ্য বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি শপথ নিয়েই আমাদের ক্ষীরপুলি মিষ্টিই খেলেন এবং বাকি বিধায়ক এবং ব্যক্তিত্বদের হাতে তুলে দেন ক্ষীরপুলি।”

মমতার ভালোবাসা এখানেই থেমে থাকেনি। সম্রাটবাবু বলেন, “তখন তাঁর সরকার ক্ষমতায় চলে এসেছে। বিধানসভায় নতুন স্পিকার নির্বাচন। উনি আমাদেরকেই ডাকলেন এবং ক্ষীরপুলিরই অর্ডার দিলেন। বিধানসভায় সবাই মুগ্ধ। ১৫ মিনিটে ২০০০ মিষ্টি উড়ে গেল। বুঝলাম দাদুর রেখে যাওয়া কাজ আমি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি।”

টলিউড অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারির বিয়ে থেকে শুরু করে হাওড়ার মেয়র রথিন চক্রবর্তীর বাড়ি , সব জায়গাতেই জায়গা করে নিয়েছে ক্ষীরপুলি। কষ্টের দিন কেটেছে। এখন শুধুই মিষ্টি মুখ করানোর দিন।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।