সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: তিনি সাংসদ। বৃহস্পতিবারেই সাংসদকক্ষে বক্তব্য পেশ করেছেন তিন তালাক নিয়ে। তৃণমূলের জন্মের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোদ্ধা। বয়স বেড়েছে, শরীর ভেঙেছে। কিন্তু রসগোল্লা? হাজারও ব্যস্ততা, শারীরিক সমস্যাকে দূরে সরিয়ে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি থেকে হাজির বাঙালির প্রিয় রসগোল্লার আঁতুড়ঘরে। রসগোল্লার প্রতিএমনই টান এমনই তাঁর ভালোবাসা।

‘ওম শান্তি ওম’ ছবিতে দীপিকা পাড়ুকোনের সেই বিখ্যাত সংলাপ , ‘এক চুটকি সিন্দুর কা কিমত তুম কেয়া জানো রমেশ বাবু”। তৃণমূল সাংসদের রসগোল্লা প্রীতিটাও অনেকটা এমনই। তিনি হয়তো মনে মনে কখনও বলেওছেন, ‘এক পিস রসগোল্লা কা স্বাদ তুম কেয়া জানো দিল্লিবাবু!”

বাগবাজারের গৌরিমাতা উদ্যানে ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ‘বাগবাজার ও রসগোল্লা উৎসব’। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে হাজির হাজারও অতিথির মাঝে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান এই নেতাও। সেখানেই তিনি জানালেন তাঁর রসগোল্লা প্রেমের কথা। রসগোল্লার সঙ্গে তাঁর ছোটবেলার নাড়ির টানের কথা। সে এমন টান যা সব সমস্যাকে দূরে ঠেলতে পারে। সমস্ত ব্যস্ততাকে এক চুটকিতে কমিয়ে দিতে পারে।

মঞ্চের প্রথম বক্তব্য রাখার জন্য সাংসদকেই মাইক এগিয়ে দেন রাজ্যের শিশু কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী, শশী পাঁজা। সাদা দাড়ি, লম্বা চুলের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ধীর স্থির বক্তব্য ছিল অনেকটা রসগোল্লার রসের মতোই মিষ্টি। তিনি বলেন, “দিল্লিতে শীতকালীন অধিবেশন চলছে। প্রচুর কাজ। এদিকে কালকেই তিন তালাক নিয়ে বক্তব্য রেখেছি। খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু মাথায় ছিল শুক্রবারের অনুষ্ঠানের কথা। রসগোল্লা নিয়ে অনুষ্ঠান। চলে এলাম সব ব্যস্ততা সামলে।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার শরীর এখন আগের মতো ভালো নেই। কিন্তু তার পরেও শশী পাঁজার এই বিশেষ আয়োজনে চলে এলাম। কারণ এক এবং একমাত্র রসগোল্লা। উত্তর কলকাতা রোয়াকে আড্ডা, ফুটবল আর রসগোল্লা। এতো বাঙালির ট্যাগ। এর স্বাদই আলাদা।”

প্রসঙ্গত ২০১৭-র ৩ জানুয়ারি উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যাকে রোজভ্যালি চিটফাণ্ড কাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর মতো বর্ষীয়ান এবং রাজনৈতিক মহলে গুড উইল থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের গ্রেফতারিতে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, “ভাবতে পারিনি ওরা সুদীপ দা’কেও গ্রেফতার করবে!”

গ্রেফতারির ১৩৬ দিন পর ২১ মে,২০১৭ সালে জামিন পান নেতা। জামিন পাওয়ার পর নেতার ভগ্ন শরীরের অবস্থা দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন বহু মানুষ। কোথায় সেই গোলগাল কালো চাপ দাড়িওয়ালা চেহারা? শীর্ণ চেহারার সাদা দাড়িতে ভরতি এ এক অন্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সুবক্তা সুদীপ ছাড়া পাওয়ার পরেই ফের রাজনীতির ময়দানে ফেরেন। উপস্থিত থাকছেন প্রত্যেকটি অধিবেশনে। কিন্তু ১৩৬ দিনের ছাপ শরীর থেকে গিয়েছে। যার জন্যই মাঝে মাঝেই অসুস্থ বোধ করেন তিনি। তবু তিনি হাজির থাকলেন অনুষ্ঠানে। কারণ? এক এবং একমাত্র প্রিয় রসগোল্লা।