সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : প্রায় আট বছর আগের ঘটনা। অনেকটা এমন ভাবেই কলকাতায় মিলেছিল চিতা বাঘের চামড়া। তাও আবার কুমার শানুর ‘পাড়া’। অভিযুক্তকে ধরা না গেলেও চামড়াটিকে পাচার হওয়া থেকে আটকানো সম্ভব হয়েছিল। আধা সফল হয়েছিল দমদম সিঁথির মোড়ের সেই চিতা বাঘ চামড়া কাণ্ড।

২০১১,-র ১১ অক্টোবর। দমদম এলাকা থেকে উদ্ধার হয় চিতা বাঘের চামড়া। তাও এমন একটি জায়গা থেকে যেখান ভরতি শুধুই লোহার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। দমদম সিঁথি মোড় এলাকা। সেখানেই ছিল একটি গাড়ির বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রির দোকান সেখান থেকে উদ্ধার হয় চিতা বাঘের ছাল। তবে সেবার শনিবারের ঘটনার মতো বন দফতরকে ক্রেতা সাজতে হয়নি। সদলবলে হাজির হয়েছিল বন দফতর। অনেক দিন ধরে নজরে রাখার পর আচমকা তারা হানা দিয়েছিল গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকানে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় চামড়া।

সন্ধ্যার এবং বিকালের মাঝামাঝি সময়ে সেদিন বিটি রোডের উপর শুরু হয় পুলিশের রেড। প্রথমেই ওই গাড়ির যন্ত্রাংশে হানা দেয় পুলিশ। চামড়া উদ্ধার করেই দোকানের মালিকের খোঁজ শুরু হয়। পুলিশ গোটা এলাকা তন্ন তন্ন করে খুঁজে ফেললেও ওই দোকানের মালিকের খোঁজ মেলেনি। ফরেস্ট অফিসাররা দিক অনুমান করেও অভিযুক্তকে পাকড়াও করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে ধরা যায় নি। পরে পুলিশ দোকানটিকে তালা বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়।

২০০৯ মারমোসেট বাঁদর উধাও হয়েছিল আলিপুর চিরিয়াখানা থেকে। ২০১৪ সালে জলজ্যান্ত তিনটি শিম্পাঞ্জি ধরা পড়েছিল বাগুইআটি এলাকা থেকে। উদ্ধার করা হয় হাওড়া স্টেশন থেকে। তারপর তেমন কোনও পশু পাচার বা দেহাংশ পাচারের ঘটনার খবর মেলেনি। জাম্প কাট করে ২০১৯ ১২ জানুয়ারি।

বন দফতরের বন্যপ্রাণ শাখার আধিকারিকরা গোপন সূত্রে খবর পান যে, বেশ কিছুদিন ধরে এক ব্যক্তি কলকাতায় একটি বাঘের চামড়া বিক্রির চেষ্টা করছে। শনিবার বন দফতরের আধিকারিকরা ক্রেতা সেজে হাতিবাগানে হানা দিয়ে হাতেনাতে একজনকে ধরে ফেলেন। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও একজনের নাম জানতে পারে। তারপর ধৃতকে সঙ্গে নিয়ে শ্যামবাজারে অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে বন দফতরের আধিকারিকরা।

ধৃতদের নাম সৌরভ দাস ওরফে গোপাল ও তপব্রত মজুমদার। ধৃত দুই জনের বাড়িই শ্যামবাজার। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় বাঘের চামড়াটি । ধৃতদের আজ ব্যাংকশাল কোর্টে তোলা হয়। জেরার মুখে আবারও মুখ খোলে ধৃতরা। সেখানেই উঠে তৃতীয় অভিযুক্ত কাস্টমস অফিসার সুবব্রত মজুমদারের নাম৷