সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: তিনি যাদুসম্রাট। ইন্দ্রজালে জড়িয়ে সময় পরিবর্তন করে দিতেন। যাদুর জালে চমক দিয়েছেন দেশ বিদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বদের। সেই যাদু জীবনের শুরুর দিকে বিদেশ যাওয়ার পথে খুইয়েছিলেন সর্বস্ব। পরে ম্যাজিক দেখিয়ে উপার্জিত অর্থ দান করেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামে। তিনি প্রতুলচন্দ্র সরকার, যাদুসম্রাট পিসি সরকার সিনিয়র।

পড়াশোনা শেষ করেই যাদুকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন প্রতুলচন্দ্র। দেশে দ্রুত তাঁর নাম ছড়িয়ে পরে। ডাক আসে বিদেশ থেকে। তবে যার ডাক বিদেশ পাড়ি দিলেন তিনি ভারতীয় এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী রাসবিহারী বসু। আসলে তিনি নিজেও স্বাধীনতা সংগ্রামে সহযোগিতা করতেন। আবার এটাই তাঁর প্রথম বিদেশ যাত্রা। স্বাধীনতা সংগ্রামীর ডাকে জাপানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেন যাদুসম্রাট।

কিন্তু বিপত্তি ঘটল মাঝ পথেই। বার্মায় তাঁর সবকিছু চুরি হয়ে যায়। একপ্রকার নিঃস্ব অবস্থায় রাসবিহারী বসুর কাছে পৌঁছন তিনি। এরপর তিনি খালি হাতে খেলা দেখাতে শুরু করেন জাপানে। বিদেশে পসার জমাতে সময় লাগেনি। জাপানের মানুষ যাদুর সম্মোহনে সম্মোহিত করলেন। যেখানেই ‘সোরকার’ যান সেখানেই হাজার হাজার লোকের ভিড় জমে যায়। অল্প সময়েই প্রচুর অর্থ আয় করেন তিনি। কিন্তু অর্জিত অর্থের অধিকাংশই দান করে দিয়ে এলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্বার্থে।

জাপান থেকে ফেরার পর তাঁকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। শুরু হয় যাদুর জয়জাত্রা। যাদু দেখিয়ে মাতিয়ে দিয়েছিলেন ইউরোপ, আমেরিকা সর্বত্র। ‘সোরকার’-এর শো শুনলেই নিমেষে হাউসফুল শো। প্রসঙ্গত এই সরকার বাদ দিয়ে তিনি যাদু খেলার জন্য নিজের নাম তৈরী করেছিলেন পি.সি. সোরকার। ‘সোরকার’-এর (sorcerer) বাংলা অর্থ যাদুকর। প্রখ্যাত হওয়ার পর তাঁর পুরনো পদবীতেই ফিরে এসেছিলেন তিনি।

জাপানই তাঁকে বিদেশে খ্যাতি দিয়েছিল আবার ১৯৭১ সালে ৬ জানুয়ারি জাপানের সাপোরো শহরে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন যাদুসম্রাট পিসি সরকার। ১৯৬৪ সালে ভারত সরকার পিসি সরকারকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ১৯৪৬ ও ১৯৫৪ সালে জাদুর অস্কার নামে পরিচিত “দ্য ফিনিক্স” পুরস্কার লাভ করেন তিনি। ফ্রান্স, ইংল্যাণ্ড, জার্মানি, বেলজিয়াম এবং জাপানের ম্যাজিশিয়ান সমিতির অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সালে ভারতীয় সরকার তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি ৫ টাকার স্ট্যাম্প প্রকাশ করেছিল।