স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শীতের কলকাতা মেতেছে ক্রিকেট জ্বরে। ২২ নভেম্বর ইডেনে ভারত-বাংলাদেশের ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা টানটান। এই ম্যাচ নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই উত্তেজিত পদ্মার এপার-ওপার। খেলার মাঠ ও টিভির পর্দা ছাপিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ নিয়ে উচ্ছ্বসিত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ও।

সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ঢাকার বিক্রমপুরে। তবে, তিনি ভারতের নাগরিক। তাই দুই দেশের খেলায় কোনও পক্ষপাতিত্ব থাকে না তাঁর। kolkata24x7-কে শীর্ষেন্দুবাবু বলেন, “যখন ভারত-বাংলাদেশের ম্যাচ হয়, তখন আমি একটু মুশকিলে পড়ে যাই। কারণ, একদিকে এগারো জন বাঙালি খেলছে সুতরাং বাঙালিদের দিকে সাপোর্ট একটা থাকেই। আবার আমি ভারতীয়, তাই ভারতকে অস্বীকার করতে পারি না। এই খেলায় যে দলই জিতুক বা হারুক– কোনওটাতেই আমি খুশি হই না।”

ক্রিকেট বরাবর তাঁর প্রিয়। ক্রিকেট নিয়ে শীর্ষেন্দুর লেখালিখিও বিস্তর। শীর্ষেন্দুবাবুর কথায়, “বাংলাদেশের প্রতি টান বেশি। কারণ, সেই দলে এগারো জন বাঙালি খেলে। বাংলাদেশ এখন ভালই খেলছে। ভারতের টিমও দারুণ। বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ভারত বেশ ভাল খেলছে। দুই দলের প্রতি আমার শুভেচ্ছা থাকল।” তবে শুক্রবার ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ নিয়ে দোটানায় শীর্ষেন্দুবাবু।

দেশের মাটিতে প্রথম দিন-রাতের টেস্ট ম্যাচের সাক্ষী হতে আগামী ২২ নভেম্বর ক্রিকেটের স্বর্গ্যোদ্যানে হাজির থাকবেন প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মত হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।

তার উপর ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে চলা দেশের প্রথম পিঙ্ক বল টেস্টের আকর্ষণ কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলতে নানা পরিকল্পনা করেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল। যার সিংহভাগটাই বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত। এর মধ্যে অন্যতম প্যারা ট্রুপার থেকে নেমে সেনা জওয়ানদের দুই অধিনায়কের হাতে গোলাপি বল তুলে দেওয়ার বিষয়টি।

ঐতিহাসিক টেস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই সাজতে শুরু করেছে তিলোত্তমা। শহিদ মিনার, দ্য ফর্টি টু’র মতো শহরের বড় বিল্ডিংগুলিকে গোলাপি রঙে সাজানো শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০ নভেম্বর অর্থাৎ থেকে টাটা স্টিল বিল্ডিংয়ে থ্রিডি ম্যাপিং চলবে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত। ময়দানের কিছু ক্লাব তাঁবু ও পার্ক ইতিমধ্যেই গোলাপি আলোয় সেজেছে। রবিবারই আত্মপ্রকাশ ঘটেছে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা গোলাপি বলে প্রথম দিন-রাতের টেস্ট ম্যাচের ম্যাসকট পিঙ্কু-টিঙ্কুর।