কলকাতা: দেশজুড়ে করোনার তান্ডবে খানিকটা কুপোকাত সরকার থেকে চিকিৎসক এবং সাধারণ মানুষ সকলে। প্রতিদিনি লাফিয়ে বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। ১ লক্ষ থেকে মাত্র কিছুদিনে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজারের ঘরে। করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউয়ে লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ফলে ভেঙে পড়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিকাঠামো। এই কারণে ভাইরাসে খুব সংকটজনক রোগী ছাড়া বাকিদের বাড়িতে ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, বাড়িতে ঠিকঠাক ভাবে খাওয়া দাওয়া করলে লড়াই করা যাবে এই কঠিন ভাইরাসের সঙ্গে। এই সময়ে রোগীর পরিবারদের প্রয়োজনীয় সচেতন এবং সজাগ থাকতে হবে রোগীর প্রতি।

প্রতিদিন হুহু করে সংক্রমণ বেড়ে চলায় হাসপাতালে কমেছে বেডের সংখ্যা। সেই কারণে অনেক জায়গায় সরকার এবং নানা বেসরকারি সংস্থা, এনজিও চালু করেছে সেফ হোমের ব্যবস্থা। অতিমারীর সময়ে বন্ধ থাকা স্কুল, কলেজ এবং নানা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই আইসোলেশন হোম করা হয়েছে। অক্সিজেন থেকে খাবার এবং নানা ওষুধ দেওয়া হচ্ছে এই আইসোলেশন গোমগুলিতে। তবে এই হোম বাড়িতে খোলা যেতে পারে নিজেদের পরিবারের আক্রান্ত রোগীর জন্য। সেই ক্ষেত্রে মেনে চলতে হবে বেশ কিছু নিয়ম। আর এই নিয়ম মেনে চললে লড়াই করা যাবে মারণ ভাইরাস করোনার সঙ্গে।

বাড়িতে আইসোলেশন হোম তৈরি করলে পরিবারের সংক্রমিত আপনজনের জন্য প্রথমে একটি খাবারের তালিকা এবং নিয়ম বেঁধে দেওয়া উচিত। করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তি জ্বর-সর্দি-কাশির মতো সমস্যার কারণে দুর্বল হয়ে থাকে। সেই কারণে খাবারের তালিকায় বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর খাবার, ফলমূল, শাকসব্জি রাখতে হবে। এই সময়ে ইমিউনিটি ক্ষমতা কমে যেতে থাকে আক্রান্ত ব্যক্তির। ইমিউনিটি বৃদ্ধি করার জন্য প্রতিদিন সকালে হালকা গরম জলে লেবু এবং মধু মিশিয়ে খাওয়ার দরকার।

ওষুধ হিসেবে দেওয়া যেতে পারে ভিটামিন সি, ভিটমিন ডি, ভিটামিন ই এবং জিঙ্কের ওষুধগুলি, তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া উচিত এই বিষয়ে। অন্যদিকে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২ টার মধ্যে অন্তত ২০ মিনিট রোদে বসার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। করোনায় অনেকের পেটের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পেটের সমস্যার জন্য দিনে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ার দরকার রয়েছে সংক্রমিত মানুষের। এর পাশাপাশি এই সময়ে প্রচুর পরিমাণে ক্লান্তি থাকার দরুন দিনে কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুম অথবা বিশ্রাম নিতে হবে সক্রমিত ব্যক্তি অথবা ব্যক্তিদের।

বাড়িতে আইসোলেশন হোমের ব্যবস্থা করলেও প্রায় সব সময় পর্যবেক্ষণ করতে হবে করোনা আক্রান্ত রোগীকে। করোনা ভাইরাসে জ্বর একটি উপসর্গ হলেও খুব ঘন ঘন জ্বর দেখা দিলে কিংবা জ্বরের পরিমাণ বেড়ে গেলে সময় নষ্ট না করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দরকার। আবার দৈনিক লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার কারণে অক্সিজেনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অনেকে বাড়িতে অক্সিজেন কিনে কাজ চালাচ্ছেন। তবে অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কমে গেলে চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং দরকার হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও ঘন ঘন ঘুম, জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো বিষয়গুলো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় করোনা সংক্রমিত রোগীর ক্ষেত্রে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.