সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: কমিউনিজমের দেশ চিন। কমিউনিজম মূর্তি পুজোয় বিশ্বাস করে না। সেই লাল চিনের মাটিতেও পূজিত হন দুর্গা। এই দেশের প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস এবং মানুষের বিশ্বাস সেই তথ্যই দিচ্ছে। পার্থক্য একটাই তিনি শতভূজা। ১০০ হাতে তিনি বধ করেন ভয়কে।

লাল চিনের মানব জীবনে আলোর দিশারী দেবী কুয়ান ইন। তিনিই চিনের দুর্গা। ভক্তেরা দেবী কাছে হত্যে দিয়ে থাকেন সুখ ও শান্তির আশায়। মাও সে তুং চিনের মানুষকে কি দিয়েছেন তা নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু চিনের প্রাচীরের পরে এক শহর ক্যান্টন। সেখানেই এক বুদ্ধ মন্দিরে পূজা হয় ‘চাইনিজ’ দুর্গার।

মহানগরে রয়েছে চায়না টাউন। রয়েছে চায়না স্পেস্যাল রেস্তোরাঁ। ট্যাংরার চাইনিজ কালির কথা কেই বা জানেন না। কিন্তু নাথুলা, ডোকলামের পরের দেশেও পূজিত হন দুর্গা। হাজারে হাজারে মানুষ রোজ পুজো দিতে আসেন কুয়ান ইনের। প্রত্যেকের আশা দেবী তাঁর মনস্কামনা পূরণ করবেনই। কামনা পূর্ণ হবে ওই ১০০ হাতে।

তিনি ভালো সময়ের দেবী। তিনি অভয় দেন। ক্ষমতা দেন যুদ্ধক্ষেত্রে। সাহস জোগান মনে। বাংলায় তিনি যেমন কাত্যায়নী, কালিকা তেমনই সেই একই দেবী ভিয়েতনামে কুয়ান আম, থাইল্যান্ডে কুয়ান ইম এবং কোরিয়ায় কুয়ান উম। তিনি কোথাও থাকেন দুই সন্তানের সঙ্গে। কোথাওবা উপস্থিত একলা। তাঁর পরনে থাকে সাদা রঙের গাউন। বঙ্গদেশে তিনি শাড়ি পরিহিতা।

তথ্য অনুযায়ী সেই প্রমাণ মিলবে ‘বেলুড় মঠে স্বামীজির দুর্গাপুজো’ বইটিতে। বিদেশ বিভুঁয়ে এমন অনেক দেবীই আছেন যারা দুর্গা সাদৃশ। এদের তালিকাতেই রয়েছেন দেবী কুয়ান ইন। ইতিহাসবিদদের দাবি, সেই সময় বহু ভারতীয় ব্যবসা সূত্রে চিন পাড়ি দিতেন। হিন্দুরা সঙ্গে নিয়ে যেতেন তাঁদের অধিষ্ঠাত্রী দেবীকে। তেমন ভাবেই চিনা সংস্কৃতিতে প্রবেশ দুর্গার।

১৯৬২ সালের চিন-ভারত যুদ্ধের সময়ের পরিচিত স্লোগান ‘হিন্দি চিনি ভাই ভাই’। স্লোগানে হলেও আদতে কোনওদিনই ভারত-চিনের মতে মেলেনি। এখনও মেলে না। ডোকলামে সেনা মোতায়েন তার অন্যতম প্রমাণ। ভারতের ‘শত্রু’ পাকিস্তানকে সামরিক এবং রাজনৈতিকভাবে সমর্থনও তার অন্যতম প্রমাণ। ভারতেরই এক রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ।