নয়াদিল্লি: সংসদে রসাত্মক ভাষণ দিতেন৷ সরকার-বিরোধীরা একসঙ্গে হাসত৷ কিন্তু কূটনীতির ক্ষেত্রেও রসের অভাব ছিল না৷ সেটা বুঝিয়েছিলেন চিন কে৷ ’৬২ সালের সেই সংঘর্ষের পর যখন দেশজুড়ে চরম বিক্ষোভ চলছে-সরকার তথৈবচ তখনও বিরোধী শিবিরে থাকা অটল বিহারী বাজপেয়ীর অভিনব ভূমিকা সবাইকে চমকে দিয়েছিল৷

ভারতের বিরুদ্ধে একবার ভেড়া ও ইয়াক চুরির অভিযোগ এনেছিল চিন৷ সালটা ছিল ১৯৬৭৷ চিনের অভিযোগ ছিল, সিকিম সীমান্তের কাছে তিব্বতের এক পশুপালকের কাছ থেকে ভারতীয় সেনা ৮০০ ভেড়া ও ৪৭টি ইয়াক চুরি করেছে৷ ভারতকে চোখ রাঙায় চিন৷ জানিয়ে দেয়, ভালোয় ভালোয় ভেড়া ও ইয়াক ফিরিয়ে দাও৷

সেই সময় কেন্দ্রে কংগ্রেস৷ প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী৷ ১৯৬২ সালে চিনের কাছে যুদ্ধে নাস্তানুবাদ হয়েছে ভারত৷ ফলে প্রতিবেশীকে চটানোর সাহস দেখাতে পারছিল না ভারত সরকার৷ সেই সময় ৫ফুট ৬ ইঞ্চির অটল সাহস দেখিয়েছিলেন পিকিং(এখন বেজিং)-কে মোক্ষম জবাব দেওয়ার৷

পশু চুরির ভিত্তিহীন অভিযোগের জবাবে একদিন দিল্লির শান্তিপথে চিনা দূতাবাসে অভিনব প্রতিবাদ দেখান অটলবিহারী৷ চিনা দূতাবাসে এক পাল ভেড়া পাঠিয়ে দেন৷ বাজপেয়ীর এই কাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয় চিন সরকার৷ ভারত সরকারকে এই নিয়ে বিস্তর অভিযোগ করে৷ চিনকে ঠাণ্ডা করতে বিদেশমন্ত্রক জানায়, যারা বিক্ষোভ দেখিয়েছে তারা আসলে গুন্ডা৷

অটলবিহারী যা করেছিলেন সেটা ছিল নিছকই রসাত্মবোধক কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া৷ কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে ভারত সরকার সেদিন কত দূর্বল চিত্তের পরিচয় দিয়েছিল৷