স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শরীরের প্রতিরোধশক্তি বৃদ্ধি করতে পারলে করোনা (coronavirus) আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে বলে চাউর হয়ে গিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ (whats app) আর সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান মাল্টিভিটামিন, ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়াম ট্যাবলেটের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে৷ অনেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়াই সেসব ওষুধ নিয়মিত খাচ্ছেন৷ আর তাতে নিজেরাই নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেন৷ এমনটাই মত চিকিৎসক মহলের৷

এক ওষুধ ডিস্ট্রিবিউটর জানান, এখন হোয়াটসঅ্যাপ আর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিরোধশক্তি বর্ধক ওষুধের নাম-সহ নানান ব্যাখ্যা মিলছে। আর তা দেখে সাধারণ মানুষ নির্বিচারে এই সব ওষুধ কিনছেন। প্রয়োজনের থেকে বেশি ওষুধ কিনে মজুত করার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: সংসদে ‘বিবাহিত’ পরিচয়, আইনি জটিলতায় কি পড়তে পারেন নুসরত: কী বললেন আইনজীবী

ওই সব ওষুধ খেলে সত্যিই কি করোনা প্রতিরোধ করার শক্তি গড়ে ওঠে? ওষুধ বিশেষজ্ঞ অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, ‘‘আচমকা ওই সব ওষুধ খেতে শুরু করলে প্রতিরোধশক্তি তৈরি হয় না। আমরা প্রতিদিন যে-সবুজ আনাজপাতি, ফল খাই, মাছ-মাংস-ডিমের মতো যে-সব আমিষ খাবার খাই, তাতেই প্রতিরোধশক্তি গড়ে ওঠে। এটা একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। শরীরে কোনও খনিজ ও ভিটামিনের অভাব দেখা দিলে ওই সব ওষুধ নির্দিষ্ট মাত্রায় খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আচমকা প্রয়োজন ছাড়া বিপুল পরিমাণে ওই সব ওষুধ খেতে শুরু করলে শারীরিক গোলযোগ দেখা দিতে পারে। শরীরে প্রয়োজন না হলে ভিটামিন সি খাওয়া উচিত নয়৷ তাতে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিকে পারে৷’’ সরকারি হাসপাতালের এক মেডিসিনের চিকিৎসক জানাচ্ছেন, শরীরে খনিজ, ভিটামিনের পরিমাণ হয়তো ঠিকঠাকই আছে। সে-ক্ষেত্রে অকারণে ওই সব ওষুধ খেলে হৃদ্‌যন্ত্র থেকে কিডনি পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

অতিরিক্ত ভিটামিন সি শরীরে যে প্রভাব ফেলে

 ভিটামিন সি অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে শরীরে ভিটামিন শোষণ ক্ষমতা কমে আসে। এ ছাড়া কিছু পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে। যেমন—

১. ডায়রিয়া
২. বমি বমি ভাব হওয়া বা বমি হওয়া
৩. বুক জ্বালাপোড়া করা
৪. তলপেটে অতিমাত্রায় ব্যথা হওয়া
৫. মাথাব্যথা
৬. অনিদ্রা

অতএব চিকিৎসকদের পরামর্শ, হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় এব্যাপারে উপদেশ দেওয়া এবং নেওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকুন৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.