নয়াদিল্লি : চার মাসেরও বেশি সময় হতে চলল পৃথিবী জুড়ে চলছে কালান্তক করোনার কালবেলা। মারণ ব্যাধির দাপটে পর্যদস্তু জনজীবন। গতি হারিয়েছে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ। দিনরাত এক করে বিজ্ঞানীরা আলোচনা গবেষণা চালালেও এখনও পর্যন্ত অধরা এই রোগ থেকে মুক্তির সদুত্তর।

যার ফলে দিন যতই যাচ্ছে ততই নিত্যনতুন উপসর্গ নিয়ে হাজির হচ্ছে করোনাভাইরাস। আর এই অবস্থায় অদৃশ্য ব্যাধির দাপট ঠেকাতে নিজেদের মতো করে উপায় বাতলাচ্ছে একদল সবজান্তা পাবলিক। ফলে করোনা নিয়ে দ্রুত ছড়াচ্ছে গুজব। আর এক্ষেত্রে গুজব ছড়ানোর সবথেকে বড় প্ল্যাটফর্ম হল সোশ্যাল মিডিয়া।

কারণ, যন্ত্র সভ্যতার এই যুগে মানুষ বড় ব্যস্ত। ফলে কোনও খবরের সত্য মিথ্যা যাচাই না করেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্রুত হোয়াটস অ্যাপ এবং ফেসবুকে ভ্রান্ত খবর প্রচার করে দেন। যারফলে একশ্রেণীর অসচেতন মানুষ কোনও কিছু বিচার না করেই এই ভ্রান্ত খবর গুলির উপর নিজেদের বিশ্বাস যোগ্যতা তৈরি করে ফেলে। পরবর্তীতে দেখা যায় হিতের বিপরীতই ঘটেছে ফলাফল।

যেমন, সম্প্রতি করোনা নির্মূলের উপায় হিসেবে একটি অব্যর্থ ওষুধ সম্পর্কে গুজব রটেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে বলা হচ্ছে প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত কোনও ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হলে হলুদ,মধু এবং গোলমরিচ খেলে এই রোগের হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন।

শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টটিতে পন্ডিচেরী বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত বর্ষের রামু নামে এক ছাত্র জানিয়েছেন, করোনা নিমূর্লের অব্যর্থ ওষুধ হল ভারতের বিভিন্ন মশলা। আর তার মধ্যে রয়েছে হলুদ, গোলমরিচ, আদা এবং মধু। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন আদার রসে মধু মিশিয়ে খেলে করোনা থেকে মুক্তি মিলবে বলে দাবি করা হয়েছে।

এমনকি আমজনতার বিশ্বাস অর্জনের জন্য ওই পোস্টটিতে আরও বলা হয়েছে, করোনা বধে ভারতের এই মশলা গুলি বহুলাংশে উপকারী বলে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। তবে সম্পূর্ণ পোস্টটি ভিত্তিহীন এবং গুজব ছাড়া কিছুই নয়। করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারে যেখানে বিশ্বের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে সেখানে মাত্র কয়েকটি মশলা মারণ এই ব্যাধির দাপট ঠেকাতে সক্ষম তা মানতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা। ফলে সম্পূর্ণ পোস্টটিই যে গুজব ছাড়া আর কিছু নয় তা বলাই বাহুল্য। এগুলি অনেক সময় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকায়। তবে সম্পূর্ণভাবে ভাইরাসকে মারতে পারে না।

সাধারণ জ্বর সর্দি-কাশিতে আদা মধু উপকারী। তাই বলে করোনা রোধে? সুতরাং এমন গুজবের ফাঁদে পা দেবেন না। আপনার বা পরিবারের কারও শরীরে বিন্দুমাত্র করোনার উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করান এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় সর্তকতা বিধি মেনে চলুন। বাড়ির বাইরে বের হলে মাক্স, গ্লাভস এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজর ব্যবহার করুন। সুস্থ থাকুন সরকারি নির্দেশিকা পালন করুন।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও