আগ্রা: দূষণের ফলে ভারতের গর্ব তাজমহলের রং-এ বদল আসছে৷ কিন্তু এর আসল রং কি? তা জানতে উদ্যোগী হল কেন্দ্র৷ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ রবিবার কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পরিবেশমন্ত্রী মহেশ শর্মা একথা জানান৷ তিনি বলেন মে মাসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পাওয়ার পর সরকার তাজমহলের রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রী জানান, তাঁদের কাছে ১০০ বছর আগের তাজমহলের ছবি আছে। তখনকার ছবি নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা করা হলে পাওয়া যাবে তাজমহলের আসল রং।

তাজমহলের রক্ষণাবেক্ষণ ও রং-এর সঠিক মাত্রা রক্ষার দাবিতে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলায় মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে ভর্ৎসনা করে৷ আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল তাজমহলের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না৷ এই ইস্যুতে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগকে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করেছিলেন বিচারপতি এম বি লোকুর ও বিচারপতি দীপক গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ।

সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বলে, ঐতিহাসিক এই সৌধে পোকামাকড় ও কীটের আক্রমণ শুরু হলেও তা বন্ধের জন্য কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। কেন্দ্র এই ব্যাপারে কী ভাবছে তা জানতে চেয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত৷

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ,তাজমহল গড়া হয়েছিল শ্বেত পাথরে। আজ অবশ্য সেই রং নেই। আগে দেখা গেছে হলুদ, বদলে হয়েছে তা বাদামি। আর এখন তা বদলে হয়েছে ঘোলাটে ও অনেকটা সবুজাভ। সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল এ এন এস নাদকার্নি। তিনি ডিভিশন বেঞ্চকে জানান, পরিবেশ এবং বন মন্ত্রক আদালতের পরামর্শ অনুসারে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের চিন্তাভাবনা করছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের আইনজীবী জানান, যমুনার স্রোতহীন নোংরা জলের জন্য তাজমহলে পোকামাকড়ের উৎপাত শুরু হয়েছে৷ তবে এই সওয়াল জবাব সুপ্রিম কোর্টকে খুশি করতে পারেনি৷ কিছুটা ক্ষোভের সুরেই আদালত জানায়, যেভাবে এই ইস্যুতে নিজের দোষ ঢাকার চেষ্টা চলছে, তা দেখে অবাক হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট৷
মে মাসের শুনানিতে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল শীর্ষ আদালত৷ তাজমহলকে রক্ষা করার আবেদন জানিয়েছিলেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ এমসি মেহতা।

তাঁর আইনজীবী জানান, শীর্ষ আদালত একাধিকবার নির্দেশ দিলেও তা সঠিকভাবে পালন করা হয়নি। তাই এখন তাজমহল ভয়াবহ রূপ নিতে বসেছে। তিনি আরও বলেছেন, তাজমহলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও উন্নত নয়। বেশির ভাগ জায়গায় সিসিটিভি কাজ করছে না।