স্বাগত নতুন বছর৷ ইংরাজি নববর্ষে শুভেচ্ছা৷ বর্ষবরণে মিশে থাকে আগামীর পথ চলার ভাবনা৷ এই লক্ষ্যে Kolkata 24×7 নতুন করে ভাবছে৷ এতে মিশে আছে ভবিষ্যৎ দেখার ইচ্ছে৷ আমরা এগিয়ে চলেছি, তাই পিছন ফিরে দেখা নয় আগামীকেই স্বাগত জানাচ্ছি৷ ২০১৮ সালের সম্ভাব্য কিছু ঘটনা তুলে ধরছি৷ বাংলা সংবাদমাধ্যমে এ এক ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা৷ দেশ থেকে বিদেশ, খেলা থেকে মেলা সমস্ত বিষয়ের সব খবর এক ক্লিকে৷ এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের দশদিক

১. মহাকাশে বাংলা

স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশের কাছে ২০১৮ বছরটি নয়া ইতিহাস লেখার পালা৷ নতুন বছরেই মহাকাশে পৌঁছে যাচ্ছে দেশটি৷ বিশ্বকে প্রদক্ষিণের অপেক্ষায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট৷ আগামী মার্চে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মহাকাশে পাড়ি দেবে৷ নিঃসন্দেহে সেই মুহূর্তটি ঐতিহাসিক৷

২. গ্রেফতার হবেন খালেদা ?

দুটি সংস্থার আর্থিক কেলেঙ্কারি মামলায় ক্রমশ জড়িয়ে পড়ছেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া৷ বার বার আদালতে হাজিরা দেওয়াই তাঁর রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ পাশাপাশি থাকছে গত জাতীয় নির্বাচন বয়কটের পর হিংসাত্মক আন্দোলনে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ৷ এই মামলাতেও জর্জরিত হচ্ছেন তিনি৷ বিদেশে থাকা সম্পত্তির খতিয়ান নিয়েও বিতর্কে জড়াচ্ছেন৷ এসবই ঘিরে থাকবে তাঁকে৷ আইনি প্যাঁচে জর্জরিত খালেদা জিয়া৷ গ্রেফতার করা হতে পারে তাঁকে৷

৩. জাতীয় নির্বাচনে শান্তি বিঘ্নিত

ক্ষমতায় থাকা আওয়ামি লিগের কাছে চ্যালেঞ্জ৷ বিরোধী বিএনপি চাইছে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন৷ অনড় সরকারপক্ষ৷ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের হুমকি বিএনপির৷ ফলে প্রবল রাজনৈতিক সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে৷

৪. রক্তাক্ত সংখ্যালঘু


ধর্মীয় মৌলবাদীদের প্ররোচনায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান) আরও রক্তাক্ত হবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের৷ কুরুচিকর প্রচারের জেরে ফেলে আসা বছরে বারে বারে আক্রান্ত হয়েছেন সংখ্যালঘুরা৷ সেই রেশ আরও বাড়তে চলেছে৷ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত দেশটির সুশীল সমাজ৷

৫. নাশকতার আশঙ্কা

ধর্মীয় কট্টরপন্থী সংগঠনগুলি ও বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনে হামলার আশঙ্কা থাকছেই৷ গুলশন, শোলাকিয়া ইদগাহের মতো বড়সড় হামলা ঘটাতে তৎপর জঙ্গিরা৷ সন্ত্রাসবাদ রুখতে বিশেষ অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ জঙ্গি দমন বাহিনী ‘সিটিটিসি’ চালাচ্ছে অভিযান৷

৬. মিলবে জেএমবি ও নব্য জেএমবি ?

জামাত উল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও তার থেকে বেরিয়ে গঠিত নব্য জেএমবি ফের একযোগে নাশকতার পরিকল্পনা নিচ্ছে৷ সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত কিছু বিশেষজ্ঞ এমনই মনে করছেন৷ জঙ্গি দমন অভিযানে দুটি সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব হয় নিহত বা আত্মগোপনে আছে৷ তাদের পক্ষে পৃথকভাবে হামলা চালানোর সম্ভাবনা ক্রমশ কমছে৷ ফলে দুই জঙ্গি সংগঠন একযোগে হামলা চালাতে পারে এমনই আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা৷

৭. বাড়বে অপহরণ আতঙ্ক

বাংলাদেশে চলতে থাকা অপহরণ (গুম) ঘটনায় উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মহল৷ নতুন বছরে বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের আগে এটি আরও বড় আকার নিতে চলেছে৷ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ীদের অপহরণ করা হচ্ছে প্রায়ই৷ শত শত মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে দাবি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের৷ বিরোধীদের অভিযোগ সরকারের নির্দেশে চলছে অপহরণ কাণ্ড৷ সেই দাবি উড়িয়েছে সরকারপক্ষ৷ তবে নিখোঁজ বহুজনই ফেরেননি৷

৮. পাঠ্যপুস্তকে মৌলবাদী থাবা

বিভিন্ন শ্রেণির বাংলা ভাষা সহ বেশকিছু বিষয়ে মৌলবাদী প্রভাব লক্ষ্য করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁদের দাবি, এটি বাংলাদেশের মূলে কুঠারাঘাত করছে৷ ইতিমধ্যেই প্রাথমিক স্তরের কিছু পাঠ্যসূচিতে বাদ পড়েছেন রবীন্দ্রনাথ সহ বাঙালি ধর্মনিরপেক্ষ কবি সাহিত্যকরা৷ প্রতিবাদ মুখর হয়েছে সুশীল সমাজ৷ পাঠ্যসূচিতে মৌলবাদী প্রবণতা বাড়তে চলেছে বলেই আশঙ্কা করছেন অনেকে৷

৯. রামপাল বিক্ষোভ

জাতীয় নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু হতে চলেছে প্রস্তাবিত রামপাল তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প৷ সুন্দরবনের নিকটে তৈরি হতে চলা এই প্রকল্পে ভারতের এনটিপিসি সাহায্য করছে৷ পরিবেশবিদদের বক্তব্য, রামপাল প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্য প্রবল ক্ষতির মুখে পড়বে৷ এর জেরে সরকার বিরোধী আন্দোলনে বারে বারে উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে ঢাকায়৷ একই ইস্যুতে নতুন বছরেও উত্তপ্ত থাকবে রাজনীতি৷

১০. অপু-শাকিব দাম্পত্য

ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেছিলেন শাকিব খানকে৷ অপু বিশ্বাসের বিয়ে ও সন্তান নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি বাংলাদেশে৷টিভিতে লাইভ অনুষ্ঠানে ছেলে কোলে নিয়ে কাঁদতে থাকা ঢালিউডি অভিনেত্রী দেখেছিল দুনিয়া৷ স্বামী শাকিব খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন তিনি৷ ইতিমধ্যেই বিবাহবিচ্ছেদের ‘তালাকনামা’ পাঠিয়েছেন শাকিব৷ জোড়া লাগবে অপুর সংসার ? ঢালিউডে ঘুরছে এই প্রশ্ন৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.