স্বাগত ঘোষ: ম্যাচের ফলাফল বলছে মোহনবাগান ম্যাচ জিতেছে ২-০ গোলে। কিন্তু শংকরলালের জুতোয় পা গলিয়ে বাগানকে নতুন কী দিলেন খালিদ জামিল। সারা ম্যাচে ডিকার উদ্দেশ্যে সনির দুটো বাড়ানো বল আর গোল লক্ষ্য করে সনির একটি শট ছাড়া ম্যাচের নির্যাস শূন্যই। তবে খালিদের হাত ধরে ম্যাচ শেষে মাঠেই ফুটবলারদের কুল ডাউনের চিত্র দেখল বাগান জনতা।

‌পুরনো প্রথা মেনেই ময়দানে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু আই লিগ জয়ী কোচের। ম্যাচ শুরু হওয়ার অন্তত আধমিনিট পর টানেল দিয়ে উঠে বিপক্ষ কোচ-কর্তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজের জায়গায় গেলেন খালিদ। এরপর সারা ম্যাচে তাঁকে আর বসতে দেখা যায়নি। গোলদুটির পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও তা মাত্রা ছাড়ায়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে হয়তো অনেক বেশি সাবধানী আইজলকে আই লিগ দেওয়া কোচ।

সাংবাদিক সম্মেলনেও প্রশ্নের উত্তরে হিসেবি শোনাল বাগানের নয়া কোচকে। সবে একদিন হল দায়িত্ব নিয়েছেন দলের। স্বল্প সময়ে আমুল কিছু বদলে দেননি তিনি। তাই ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব পুরোটাই ছেলেদের দিলেন খালিদ।

জয়ের পিছনেও ব্যক্তিগত কারোও অবদান নয়, বরং টিম গেমে জোর দিলেন বাগান কোচ। জানালেন, ‘ছেলেদের সাথে কথা বলেছি আর দলগঠনে কিছুটা বদল এনেছি। এছাড়া কিছুই আমি করিনি।’চ্যাম্পিয়নশিপের প্রশ্নেও সাবধানী খালিদ জানান, ‘সামনেই নেরোকা ম্যাচ। ওরা দারুন দল। আমাদের হাতে দিনদুয়েক সময় আছে। সুতরাং এখন আগামী ম্যাচ নিয়েই ভাবতে চাই।’

কোচের সুরে সুর মিলিয়ে দলের জয়ে তৃপ্ত ম্যাচের প্রথম গোলস্কোরার ওমর আল হুসেইনিও। নিজের গোলের চেয়েও দলের জয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। কোচের নির্দেশমতো খেলেই আগামী দিনে দলের জয়ে শরিক হতে চান সালাহর দেশের এই ফুটবলার।

অন্যদিকে ম্যাচ হেরে রেফারিং নিয়ে তোপ দাগলেন মিনার্ভা কোচ পল মুনস্টার। কলকাতায় এসে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে গেলেও বাগানের বিরুদ্ধে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে দলকে। ফলাফলের কারণ হিসেবে রেফারিকে কাঠগড়ায় তুলে আইরিশ কোচ জানালেন, দুর্দান্ত ট্যাকেলের পরও রেফারির বদান্যতায় পেনাল্টি পেয়েছে মোহনবাগান। আর ওখানেই তাদের গেমপ্ল্যান নষ্ট হয়ে যায়।

তাই আগামী দিনে রেফারি সি আর শ্রীকৃষ্ণকে তাদের কোনও ম্যাচের দায়িত্ব না দেওয়ার আবেদন করেন তিনি। যদিও দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে সনির প্রশংসা করে ছেলেদের মনোসংযোগের অভাবকেই দায়ী করেছেন মুনস্টার।