সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি শিকারি, কিন্তু তিনি উদার। তিনি মেরেছেন একের পর এক নরখাদককে কিন্তু বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তো তিনি বাঘকে বলেছেন ‘উদার হৃদয়ের ভদ্রলোক’।কোন বন্যপ্রানকে হত্যা করার আগে তিনি যুক্তি খুঁজতেন কেন একে মারবো। কিন্তু যখন সেই হিংস্র বন্যপশুটি মানুষ সহ গবাদি পশুদের জীবন ধারনের পক্ষে বিশেষ ক্ষতিকারক হয়ে উঠত তখনই তিনি রাইফেল হাতে সেই হিংস্র প্রাণীর সাক্ষাৎ যম হিসাবে সামনে আসতেন। ১৯০৭ থেকে ১৯৩৮ সালের মধ্যে করবেট মোট ৩৩টির মতো মানুষখেকো বাঘকে অনুসরণ এবং গুলিবিদ্ধ করেছিলেন। যদিও এদের মধ্যে মাত্র ডজনখানেককে ভালোভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছিলো।

জিম করবেটের লেখা থেকে জানা যায়, তার প্রথম শিকার করা নরখাদক চম্পাবতের বাঘটি প্রায় ৪৩৬টি মানুষ মেরেছিল। ১৯১০ সালে তিনি পানারে প্রথম লেপার্ডটিকে হত্যা করেছিলেন যেটি প্রায় ৪০০ মানুষকে হত্যা করেছিল। তাঁর শিকার করা কুমায়ুনের মানুষখেকো লেপার্ড প্রায় আট বছর ধরে যেটি কিনা দৌরাত্ম্য দেখিয়েছিল এবং হত্যা করেছিলো ১২৬ এর বেশি মানুষকে। তার শিকার করা অন্যান্য আরও মানুষখেকোগুলোর মধ্যে তাল্লা-দেসের মানুষখেকো, মোহনের মানুষখেকো, থাক এর মানুষখেকো, মুক্তেশরের মানুষখেকো, চম্বাবতের বাঘিনী এগুলোর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এমন মানুষই বলেছেন, ‘বাঘ উদার হৃদয়ের ভদ্রলোক,সীমাহীন তার সাহস,যে দিন বাঘকে বিলোপ করে দেওয়া হবে,যদি বাঘের পক্ষে জনমত গড়ে না ওঠে বাঘ বিলোপ পাবেই,তা হলে ভারতের শ্রেষ্ঠতম প্রানীর বিলোপে ভারত দরিদ্রতর‌ই হবে’।

শৈশব থেকেই জীবনের একটা বড় অংশ‌ই তিনি তাঁর প্রানপ্রিয় কালিধূঙ্গিতে। কালিধূঙ্গি অঞ্চলের প্রতিটি গাছপালা জীবজন্তুর সাথে তাঁর পরিচিতি ছিল। প্রথম শিকার বিষয়ক শিক্ষাটা পেয়েছিলেন বড় ভাই টমের কাছ থেকে। তিনি ছয় বছর বয়সে প্রথম লেপার্ড শিকার করেন।মাত্র চার বছর বয়সে জিম করবেট তার বাবাকে হারান। তার পিতার মৃত্যুর পর তার বড় ভাই টম নৈনিতালে’র পোস্টমাস্টার পদে নিযুক্ত হন।

খুব অল্পবয়স থেকেই জিম করবেট কালাধুঙ্গিতে অবস্থিত তার বাড়ির চারিপাশের বন এবং বন্যজীবনের প্রতি প্রবলভাবে আকৃষ্ট হতেন। তরুন বয়সে ঘন ঘন জঙ্গলে ভ্রমনের মাধম্যে তিনি বেশিরভাগ পশুপাখিকেই তাদের ডাক শুনে চিনতে পারার ব্যাপারটা শিখে গিয়েছিলেন। এরপর স্বল্প সময়ের মাঝেই তিনি বুনো পশুদের অনুসরণ এবং একজন ভালোমানের শিকারি হয়ে উঠেছিলেন।

ভয়ঙ্কর কোন শিকার ধরার সময় তিনি একা থাকতে পছন্দ করতেন এবং পায়ে হেঁটে পথ অতিক্রম করতেন।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বহু মানুষখেকোকে মেরেছেন। যাদের কথা তিনি তার ‘কুমায়ুনের মানুষখেকো’,’রুদ্রপ্রয়াগের মানুষখেকো লেপার্ড’, ‘দ্যা টেম্পল টাইগার’ বইগুলোতে উল্লেখ করেছেন। তিনি কখনোই কোন বাঘ কিংবা লেপার্ডকে গুলি করতেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি এদেরকে মানুষখেকো হিসেবে চিহ্নিত করতে পারতেন। নৈনিতালে তিনি তার বেশীরভাগ সময়ই মাছ ধরে এবং নৌকায় চড়ে অতিবাহিত করতেন। কালাধুঙ্গি ছিলো তার শীতকালীন আবাস।

করবেট গান গাইতে এবং গীটারও বাজাতে পারতেন। তার জীবদ্দশায় তিনি ২২বছর(১৮৯২-১৯১৪) বিহার নর্থ ওয়েস্টার্ন রেলওয়েজে কাজ করেছিলেন। কাজ করেছেন সেনায়। জিম করবেট তার বোন ম্যাগির সঙ্গে গারনি হাউজে বসবাস করতেন। ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে ভারত ছেড়ে কেনিয়ায় উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তার আগে তাদের বাড়িটি মিসেস কলাবতী ভারমা এর কাছে বিক্রি করে দিয়ে যান।

বাড়িটিকে পরবর্তীতে জাদুঘরে রুপান্তরিত করা হয় এবং এর নামকরণ করা হয় ‘জিম করবেট জাদুঘর’। ১৯৫৫ সালে ১৯ এপ্রিল মারা যান করবেট। তাঁর নামে উত্তরখণ্ডের জঙ্গল ‘জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক’ নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.