নয়াদিল্লি: ধর্ষকদের পিটিয়ে মেরে ফেলা হোক এমন দাবিতেই সংসদে সরব হয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জয়া বচ্চন। সেই সুরেই তেলেঙ্গানা পুলিশের ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্তদের এনকাউন্টারে মেরে ফেলার ঘটনাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।

নভেম্বরের ২৭ তারিখ বুধবার হায়দরাবাদের ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। ২৬ বছরের পশু চিকিৎসক প্রিয়াঙ্কা রেড্ডীর আধপোড়া দেহাংশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে সাইবারাবাদ পুলিশ। মহম্মদ আরিফ (২৬), জল্লু শিবা (২০), জল্লু নবীন (২০) এবং চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলু (২০) নামে এই চারজনই ট্রাকের কর্মী। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুন, ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণ ও ৩৬২ ঝারায় অপহরণের অভিযোগ আনা হয়।

শুক্রবার সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হায়দরাবাদের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বলেন, “দের আয়ে দুরুস্ত আয়ে (কোনদিন না আসার চেয়ে দেরিতে আসা ভালো)”।

পুলিশ জানিয়েছে, চার অভিযুক্ত মহম্মদ আরিফ (২৬), জল্লু শিবা (২০), জল্লু নবীন (২০) এবং চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলু (২০), এই চারজনই পুলিশের থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারপরই আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালানো হয়।

গত সপ্তাহে জয়া বচ্চন রীতিমত ক্ষুব্ধ হয়ে সংসদে হায়দরাবাদকান্ডের ঘটনার উল্লেখ করে আওয়াজ তুলেছিলেন। সারা দেশ জুড়ে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদের আঁচ তিনি তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে পৌঁছে দিয়েছিলেন পার্লামেন্টে, যা নিয়ে সরগরম হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, “আমি জানি না যে আমি এই জাতীয় অপরাধের পরে কতবার সংসদে দাঁড়িয়ে এই প্রসঙ্গে কথা বলেছি। আমার মনে হয় এখন সময় এসেছে। নির্ভয়া হোক, কাঠুয়া হোক বা তেলেঙ্গানা, জনগণ চায় এই বিষয়ে সরকার একটি যথাযথ এবং সুনির্দিষ্ট জবাব দিক”, রীতিমতো ক্ষুব্ধ জয়া বচ্চনকে এই কথা বলতে শোনা যায় রাজ্যসভার অধিবেশনে।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “সরকার কী করছে? কীভাবে তারা এই ঘটনার মোকাবিলা করছে? যাঁরা নিগৃহীতা হয়েছেন তাঁদের যোগ্য বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে কী ন্যায়-বিচার করা হয়েছে? আমি কারও নাম করছি না। তবে মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়ে কি সরকার দায়বদ্ধ নয়?

সাংসদ জয়া বচ্চন বলেন, “এই ঘটনার ঠিক একদিন আগে একইরকম ঘটনা ঘটেছে তেলেঙ্গানায়। তারপরেও কেন ঘটনাকে আটকানো গেল না?”। যাঁরা এই ধরনের ভয়াবহ আক্রমণ থেকে নারী ও শিশুদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হন তাঁদের লজ্জা হওয়া উচিত এমনকি তাদের নাম প্রকাশ্যে আসা উচিৎ।”

শুক্রবার এঈ ঘটনার পড় আরও এক নেত্রী মায়াবতী এই ঘটনায় সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ‘উত্তরপ্রদেশে মহিলাদের সঙ্গে দুষ্কর্মের ঘটনা বাড়ছে। কিন্তু সেখানকার সরকার ঘুমোচ্ছে। উত্তরপ্রদেশে আর দিল্লি পুলিশের উচিৎ হায়দরাবাদ পুলিশের কাছ থেকে শেখা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অপরাধীদের সেখানে অতিথির মত রাখা হয়।’

শাদনগরের যে রাস্তায় ওই চিকিৎসকের অগ্নিদগ্ধ দেহ পাওয়া গিয়েছিল, সেখানেই এই ঘটনা ঘটে। চারজনই পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছে বলে জানিয়েছে তেলেঙ্গানা পুলিশ। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার পুনর্নিমাণের জন্য তাদের ওই জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখনই তারা পালানোর চেষ্টা করলে গুলি চালায় পুলিশ।