ফাইল ছবি

চেন্নাই: গত কয়েকদিন ধরে সংবাদ শিরোনামে বারবার উঠে আসছে বিক্রমের নাম। দ্বিতীয় চন্দ্রযানের। রোভার নিয়ে এটিই চাঁদে পৌঁছেছে। কিন্তু তার সঙ্গে ইসরোর সব যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। তাই বিক্রমের গতিবিধি সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যাচ্ছে না। শুধু অরবিটারের একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে চাঁদের মাটিতে রয়েছে বিক্রম, সামান্য হেলানো আবস্থায়।

সমানে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তবে এখনও পর্যন্ত যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ঠিক কী কারণে এইভাবে যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গেল, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন চন্দ্রযান-১ এর ডিরেক্টর মাইলস্বামী আন্নদুরাই। তিনি বলেন, ‘চাঁদের পৃষ্ঠেই বাধা পাচ্ছে, তাই ল্যান্ডার বিক্রমের সংকেতে বাধা আসছে।

তিনি মনে করেন, ‘ল্যান্ডার যেখানে অবতরণ করেছিল তা অবতরণের জমি হিসাবে যথেষ্ট উপযুক্ত নয়। তাছাড়া তাঁর মতে, এমন কিছু বাধাও থাকতে পারে, যা তার সঙ্গে “সংযোগ স্থাপন থেকে আটকাতে চেষ্টা করছিল। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো এর আগে শনিবার ভোরের দিকে চন্দ্র পৃষ্ঠে অবতরণের কয়েক মিনিট আগে চন্দ্রযান ২-এর বিক্রম ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে।

তিনি বলেন, অরবিটার এবং ল্যান্ডারের মধ্যে সর্বদা দ্বি-মুখী যোগাযোগ থাকে তাই অন্য একটি উপায়ে যোগাযোগ করা সম্ভব। তবে তা ৫-১০ মিনিটের বেশি হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার ইসরোর তরফে এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘অরবিটারের ছবিতে দেখা যাচ্ছে পরিকল্পনা মতই চাঁদের মাটিতে নেমেছে বিক্রম। ল্যান্ডারটি অক্ষত আছে, ভাঙেনি। তবে একটু বেঁকে রয়েছে।’ যোগাযোগ নতুন করে তৈরি করা যায় কিনা, সেব্যাপারে প্রচেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ইসরোর টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং ও কমান্ড নেটওয়ার্কের টিম সমানে সেই কাজ করে চলেছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ল্যান্ডার ও রোভারের আয়ু ১৪ দিন, তাই তার মধ্যেই যোগাযোগ তৈরি করতে হবে।

তবে ইসরোর বিজ্ঞানীদের দাবি, যদিও সবকিছু অক্ষত আছে, তবু নতুন করে যোগাযোগের সম্ভাবনা ক্রমশ কমছে। যদি পুরো সিস্টেমটা কাজ করে, তাহলেই আবার যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। তবে এখনই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা। চলছে লাগাতার লড়াই। বিক্রমের অ্যান্টেনা গ্রাউন্ড স্টেশনের দিকে কিংবা অরবিটারের দিকে মুখ করে রাখতে হবে, তবেই যোগাযোগ সম্ভব। আর সেটা এই মুহূর্তে বেশ কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।