বিশেষ প্রতিবেদন: এমন ঘটনা দেশের ইতিহাসে ঘটেছে কিনা সে চর্চা চলবে। তবে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, নিজের গ্রেফতারি বাঁচাতে ড্রাইভার এবং আপ্তসহায়ককে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে বেপাত্তা হয়ে যান দেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র এবং অর্থ মন্ত্রী পি চিদম্বরাম। এরপর কংগ্রেস সদর দফতরে তিনি দেখা দিয়েছিলেন। খবর পান সেখানেও সিবিআই হানা দিয়েছে। কংগ্রেস দফতর থেকেও পালন তিনি। কংগ্রেস দফতর থেকে তাঁদের কোনও নেতা সিবিআইয়ের ভয়ে এইভাবে পালিয়েছেন, একথা অনেক বয়স্ক কংগ্রেড নেতা মনে করতে পারেননা।

যে কারণে পি চিদাম্বরমকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা হলো – আই এন এক্স মিডিয়া মামলা। এই মামলাতে মূল অভিযুক্ত চিদাম্বরাম এবং তাঁর পুত্র কার্তি।

কী এই আইএনএক্স মামলা?

পিটার এবং ইন্দ্রানী মুখার্জির (খুনের মামলায় বিচারাধীন দুজনেই এখন জেলে) মালিকানাধীন আইএনএক্স মিডিয়া ফরেন ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন বোর্ড (এফ আইপিবি) এর মাধ্যমে মরিসাসের দুই নাগরিকের থেকে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) সুযোগ পায়। ৪ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু, আইএনএক্সের-ই অন্য একটি সংস্থা আইএনএক্স নিউজ প্রাইভেট লিমিটেড কে এফডিআই-এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ টানার অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু,অভিযোগ, নির্দেশের তোয়াক্কা না করে আইএনএক্স বিদেশি সংস্থার থেকে বিনিয়োগ গ্রহণ করে এবং তাদের নিজেট শেয়ারও বিক্রি করে। মামলা করে সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ই ডি।

চিদম্বরমের বিরুদ্ধে অভিযোগ কি?

২০০৭ সালে চিদম্বরাম অর্থমন্ত্রী ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় এফইপিবি-এর মাথায় বসে তিনি আইএনএক্স-কে বেআইনি কাজকর্ম করতে দিয়েছিলেন। আইএনএক্স মালকিন ইন্দ্রানী মুখার্জি সিবিআই জেরার মুখে স্বীকার করেছিলেন , ২০০৮ সালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তিনি আইএনএক্স মিডিয়ার জন্য সেরা ‘ডিল’ করতে পেরেছিলেন। সিবিআই অভিযোগ জানিয়েছে, আইএনএক্সের বিরুদ্ধে তদন্ত করত বিকল্পে চিদম্বরম তাদের এফডিআই-এর জন্য পুনরায় আবেদন করতে বলেন।

চিদম্বরম পুত্র কার্তি কেন অভিযুক্ত?

চিদম্বরাম পুত্র কার্তি পুরো বিষয়টি নিয়ে আইএনএক্স-কে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। তিনি অর্থমন্ত্রক এবং আইএনএক্স-এর মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে থাকেন। কার্তির কোম্পানি, চেস ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডর দ্বারস্থ হন ইন্দ্রানী মুখার্জি। তদন্তে সিবিআই জানতে পারে ইন্দ্রানী কার্টিকে এক মিলিয়ন ডলার দেবে বলে চুক্তি করেছে। একটি কোম্পানির নামে কয়েক লক্ষ টাকার চেক পাওয়া যায়। ওই কোম্পানি মালিক কার্তি না হলেও তিনি ওই কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত। সিবিআই আরও অভিযোগ করে, পুরো লেনদেনে তৎকালীন অর্থ মন্ত্রী চিদম্বরাম কেও ‘পার্টি’ করা হয়।

কেন গ্রেফতার হলেন চিদম্বরাম?

দিল্লি হাইকোর্ট সম্প্রতি চিদম্বরমকে অন্তর্বর্তী জামিন দিতে অস্বীকার করে। কোর্ট বলে, চিদাম্বরাম-ই এই মামলার মূল অভিযুক্ত। তার পর সব আসা জলে যায় ইউপিএ-এর এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির।