ওয়াশিংটন: হোয়াইট হাউসের অলিন্দ পেরিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে মৃত্যুর দূতকেও নাকি থমকাতে হয়। এমনই প্রবাদ ছড়িয়ে আছে। একই নিরাপত্তা রুশ প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ক্রেমলিনেও। তবে বারবার মার্কিন প্রেসিডেন্টদের লক্ষ্য করে বিষ পাঠানো হয়েছে। আর সেই নিরাপত্তা জনিত প্রবাদবাক্যের কারণেই বারবার তাঁরা রক্ষা পেয়েছেন। যেমনটি হলো আবার।

নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাইসিন বিষ পাঠানোর ঘটনায় বিশ্ব শিহরিত। ফক্স নিউজ, সিএনএন এবং বিবিসি জানাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে পাঠানো চিঠিতে রাইসিন নামে মারাত্মক বিষাক্ত পদার্থ মেশানো ছিল। হোয়াইট হাউসে পৌঁছনোর আগেই সেই চিঠি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ঘটনার জেরে তীব্র শোরগোল মার্কিন গোয়েন্দা মহলে। এফবিআই তদন্তে নেমেছে। বিবিসি জানাচ্ছে, এর আগেও হোয়াইট হাউসে রাইসিন মেশানো চিঠি পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন বারাক ওবামা ও অন্যান্য কয়েকজন কর্মকর্তাকে রাইসিনের গুঁড়ো মেশানো চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তদন্তে ২০১৪ সালে এক ব্যক্তিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০১৮ সালে ফের মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর ও হোয়াইট হাউসে একই ধরনের রইসিন বিষ মেশানো চিঠি পাঠানোর জন্য এক প্রাক্তন সেনাকর্মী অভিযুক্ত করা হয়।

একনজরে রাইসিন বিষ:

১. যে বীজ থেকে ক্যাস্টর অয়েল তৈরি হয়, সেই একই বীজ থেকেই রাইসিন বিষ মেলে।

২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, রাইসিন এতটাই বিষাক্ত, এর মাত্র কয়েক ফোঁটা একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হবে।
৩. রাইসিন খেয়ে ফেললে, নিঃশ্বাসের সাথে অথবা ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে মাথা ঘোরা, বমি শুরু হয়। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হতে থাকে।

৪. কতটা পরিমাণ রাইসিন শরীরে প্রবেশ করেছে তার উপর নির্ভর করে ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু ঘটে।
৫. রাইসিনের বিষক্রিয়া রোধের কোনও প্রতিষেধক এখনো নেই।

বিবিসি জানাচ্ছে, রাইসিন মেশানো চিঠি নিরাপত্তার জালে এবারেও আটকে গিয়েছে।হোয়াইট হাউসের ঠিকানায় পাঠানো যে কোনও চিঠির পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য বিশেষ কার্যালয়ে যায়। সেখানেই চিঠিতে রাইসিন মেশানো আছে জানা যায়।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিক্রেট সার্ভিস তদন্ত শুরু করেছে।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।