বেঙ্গালুরু: গত কয়েকদিন ধরেই শিরোনামে চন্দ্রযান-২। ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও জানা গিয়েছে অরবিটারের আয়ু অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এক বছর এই অরবিটারটি চাঁদের চারপাশে ঘুরবে বলে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে যে, ছ’বছর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সেই অরবিটারের আয়ু। অর্থাৎ সাত বছর ধরে কার্যকর থাকবে সেটি।

সাত বছর ধরে অরবিটারটি চাঁদের চারপাশে ঘুরে গুরুত্বপূর্ণ ছবি ও তথ্য পাঠাবে পৃথিবীতে। চাঁদের পৃষ্ঠদেশ ও আবহাওয়া নিয়ে অনেক তথ্য আসবে বিজ্ঞানীদের হাতে, যা পরবর্তীকালে কাজে লাগবে বলেই আশা করছেন গবেষকরা।

কিন্তু কীভাবে বাড়ানো হল এই অরবিটারের আয়ু?

জানা গিয়েছে, চাঁদের দিকে যাওয়ার সময় অরবিটারের যে জ্বালানি খরচ হওয়ার কথা ছিল, তা কিছুটা সঞ্চয় করা সম্ভব হয়েছে। তাই ইসরো অরবিটারের আয়ু বাড়াতে পেরেছে। গত ২২ জুলাই চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা হয় চন্দ্রযান-১। তখন অরবিটারে ছিল ১৬৯৭ কেজি জ্বালানি। বর্তমানে তাতে রয়েছে ৫০০ কেজি জ্বালানি। যা দিয়ে সাত বছর ঘুরতে পারবে অরবিটারটি।

গত ২২ জুলাই ‘বাহুবলী’ রকেট অর্থাৎ জিএসএলভি মার্ক ৩-তে চন্দ্রযান পাঠানো হয় চাঁদের উদ্দেশ্যে। শ্রীহরিকোটা থেকে রওনা হওয়ার পর চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছে যায় এটি। ২০ অগস্ট চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে চন্দ্রযান। ১ সেপ্টেম্বর চাঁদের অন্তিম কক্ষপথে প্রবেশ করে। তখন চাঁদ থেকে এই স্পেসক্রাফটের দূরত্ব ছিল ১০০ কিলোমিটার।

বারবার কক্ষপথ পাল্টানোর সময় জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়। তাতেই ক্ষয় হয়েছে অরবিটারে মজুত থাকা জ্বালানি। তাই চাঁদে পৌঁছনোর পর এতে বেঁচে ছিল আর ৫০০ কেজি জ্বালানি। ইসরোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই ৫০০ কেজি জ্বালানি চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করার জন্য ব্যবহার করা হবে।
তবে যদি কোনও জরুরি কারণে কক্ষপথ পরিবর্তন করাতে হয় অরবিটারকে। তাহলে, এর জ্বালানি নষ্ট হতে পারে। সেক্ষেত্রে আয়ু কমে যাবে।

অরবিটার:

এটিই চন্দ্রযান-১ এর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে আটটি পে লোড রয়েছে। যা দিয়ে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব। চন্দ্রপৃষ্ঠ পরীক্ষা করে দেখা হবে। চাঁদের মাটিতে ম্যাগনেসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, সিলিকন, ক্যালসিয়াম, টাইটানিয়াম, আয়রন অথবা সোডিয়াম আছে কিনা সেটা দেখা হবে। আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, চাঁদের অন্ধকার অংশে বরফের উপস্থিতি রয়েছে কিনা, সেটা দেখা।