শুধু রাত পোহানোর অপেক্ষা৷ তারপরই শ্বশুরবাড়ি রওনা দেবেন উমা৷ বাঙালির কাল মন খারাপের দিন৷ তবে শুধু বাঙালি নয়৷ আসমুদ্রহিমাচলের মানুষেরও কাল মন খারাপর দিন৷ কারণ, দেবী দুর্গার উপাসনা তো শুধু বাংলায় হয় না, সারা ভারতে হয়৷ নবদুর্গা রূপে৷ দেশজুড়ে দেবীপক্ষের সূচনা থেকে পালিত হয় নবরাত্রি৷ মুম্বই, আমেদাবাদ, পুনে, দিল্লির মতো জায়গায় জোরকদমে চলে নবদুর্গার বন্দনা৷ বাংলায় দুর্গা পুজিত হয় পাঁচদিন৷ কিন্তু সারা ভারতে দশদিন৷ সমগ্র নবরাত্রি জুড়েই চলে উৎসব৷

নবরাত্রী ও দুর্গাপুজোর মধ্যে কিন্তু খুব একটা পার্থক্য নেই৷ এক কথায় বলতে গেলে নবদুর্গা বন্দনার পিছনেও একই উদ্দেশ্য৷ দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন৷ তবে সব জায়গায় একই রূপে দেবীর আবাহন করা হয় না৷ পূর্ব ও উত্তর পূর্ব ভারতে মহিষাসুরমর্দিনী রূপে পুজিত হন দেবী৷ মহিষাসুরকে বধ করায় তিনি মহিষাসুরমর্দিনী৷ কথিত আছে, মহিষাসুরের তাণ্ডবে অতিষ্ট স্বর্গবাসী দেবতারা ও মর্তের মানুষ আদিশক্তির আরাধনা করেন৷ দেবতাদের তেজে প্রতিষ্ঠিত হন দেবী দুর্গা৷ পিতৃপক্ষের অবসানকালে দেবীপক্ষের সূচনা থেকে শুরু করে মোট ৮ দিন লেগেছিল মহিষাসুরকে বধ করতে৷ অষ্টম দিনের শেষে, নবম দিনের শুরুতে অর্থাৎ দুই দিনের সন্ধিক্ষণে মহিষাসুরকে বধ করেন মহিষাসুরমর্দিনী৷ এই সময়টিতে সন্ধিপুজো করা হয়৷

উত্তর ভারতে নবরাত্রির মূল পুজো হয় নবমীতে৷ এদিন পুজো করে ৯দিনের উপোস ভাঙে অনেকে৷ অনেক জায়গায় এদিন হয় কুমারী পুজো৷ এদিন অনেক মানুষ তাদের প্রতিজ্ঞা পূরণ করে৷ কুমারীদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়ে খাওয়ানো হয়৷ এরপর সেই মেয়েদের আশীর্বাদ নেওয়া হয়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, অল্পবয়সি মেয়েদেরকে দেবী বলে মনে করা হয়। কুমারী পুজোর পরই উপবাস ভঙ্গ করা হয়। মাতা সিদ্ধিদাত্রী পুজোর মাধ্যমে নবরাত্রি সমাপ্ত হয়।

মনে করা হয়, এইদিনই মা দুর্গা মহিষাসুর নিধন করেছিলেন৷ তাই এইদিনটি মহানবমী বা দুর্গানবমী হিসেবে মানা হয়৷ মহানবমীতে মহাস্নান করার প্রথা রয়েছে৷ অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে করা হয়৷ এদিন যজ্ঞ করা অত্যাবশ্যক৷ নবরাত্রীর সমাপনের দিন নবমী পুজো করা হয়৷ এদিনটি বিশেষ করে মা সিদ্ধিদাত্রীর পুজো করা হয়৷

এছাড়া শারদীয়ার অন্য একটি মাহাত্মও রয়েছে৷ রাবণ বধের আগে টানা ৯ দিন দেবীর উপাসনা করেন৷ এরপর দশমীর দিন রাবণ বধ করেন তিনি৷ তাই দুর্গাপুজোর দশমীর দিন পালিত হয় দশেরা৷