নয়াদিল্লি: করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। কবে প্রতিষেধক আসবে, সেদিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। কিন্তু এর মধ্যে একটু আশার আলো জাগিয়েছে এক বিশেষ ওষুধ। যার নাম হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন।

সম্প্রতি করোনার চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহারে শিলমোহর দিয়েছে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশন। এই ওষুধটি সাধারণত ব্যবহার হয়ে থাকে ম্যালেরিয়া সারাতে। এই ওষুধ তৈরি হয় ভারতে। তাই আপাতত ভারতের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে অনেক দেশই। আমেরিকাও ওষুধ চাইছে ভারতের কাছে।

কী এই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন?

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন হল ক্লোরোকুইনেরই কম টক্সিক ভার্সন। এই ওষুধ ম্যালেরিয়া ছাড়াও লুপাস ও অস্টিও আর্থারাইটিস রোগীদের উপরও ব্যবহার হয়। ইদানিং করোনা চিকিৎসায় এর প্রয়োগে ইতিবাচক ফল মিলেছে বলে দাবি চিকিৎসকদের।

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ও ক্লোরোকুইন- দুটিই কুইনিন থেকে তৈরি। এটি প্রথম পেরু থেকে আমদানি করা হয়। পেশির আরামের জন্য সাধারণত ব্যবহার হত। এর সঙ্গেই সিঙ্কোনা গাছের ছালের গুঁড়ো মিশিয়ে, তার সঙ্গে মিষ্টি জল দিয়ে তৈরি হত এক জাতীয় টনিক। তাতে তিতকুটে স্বাদ কিছুটা কমত।

এই ওষুধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমসাময়িক। ১৯৩৪ এ জার্মান গবেষকরা সিন্থেটিক ক্লোরোকুইন তৈরি করেন। ম্যালেরিয়ার ওষুধ হিসেবেই এর ব্যবহার হত। এরই কম টক্সিক ভার্সন হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন।

সম্প্রতি, হোয়াইট হাউস থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভারতের সঙ্গে মার্কিন মুলুকের সম্পর্ক খুব ভালো। ভারতের ওষুধ না পাঠানোর মতো কোনও কারণ তিনি দেখতে পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।

মোদীর সঙ্গে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন-এর ব্যাপারে রবিবার ফোনে কথা হয় ট্রাম্পের। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খুব ভালোব কথা হয়েছে।’ পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ভারত যদি তাঁদেরকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দেয় তবে তাতে অবাক হওয়ার কোনও ব্যাপার নেই। ভারত অন্য দেশের জন্য এটি বন্ধ করেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ফোনালাপে মোদী বলেছেন, দেশে এই ওষুধ পর্যাপ্ত মজুত আছে কি না, তা ভালো করে যাচাই করে কোনও চূড়ান্ত নেওয়া হবে।