নয়াদিল্লি: কুলভূষণ যাদবের জন্য বারবার কনস্যুলার অ্যাকসেস চেয়েও পায়নি ভারত। পাকিস্তান বলেছিল, গুপ্তচর বৃত্তির জন্য কাউকে গ্রেফতার করা হলে, তাকে নাকি কনস্যুলার অ্যাকসেস দেওয়া যায় না। কিন্তু আন্তর্জাতিক আদালত রায় দিতে গিয়ে জানিয়েছে যে আদতে পাকিস্তান এই কাজ করে ভিয়েনা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।

কি এই কনস্যুলার অ্যাকসেস?

এটি আসলে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। মূলত যে কোনও দুই স্বাধীন দেশের মধ্যে কনস্যুলার রিলেশন বা দূত স্তরের সম্পর্কের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি এটি।

কনসাল বা দূত কিন্তু কূটনীতিক নন। একজন কনসাল বিদেশে তাঁর দেশের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। নিজের দেশের মানুষের স্বার্থেই কাজ করেন তিনি।

১৯৬৩-তে এই কনস্যুলার অ্যাকসেস সংক্রান্ত চুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, যদি কোনও দেশের নাগরিককে অন্য দেশে গ্রেফতার বা আটক করা হয়, তাহলে সেই ব্যক্তিকে অবিলম্বে নোটিশ দিয়ে জানাতে হবে যে তাঁর নিজের দেশের রাষ্ট্রদূতকে গ্রেফতারির বিষয়ে জানানোর অধিকার রয়েছে।

যদি আটক হওয়া ওই ব্যক্তি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চায়, তাহলে পুলিশ দূতাবাসে একটি ফ্যাক্স মারফত পুরো বিষয়টি জানাবে। ওই ব্যক্তির নাম, কোথা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কেন গ্রেফতার করা হয়েছে, সবটাই জানাতে হবে ফ্যাক্স মারফত।

কেন রাজি নয় পাকিস্তান?

কুল্যুষণের ক্ষেত্রে যদি পাকিস্তান ভারতকে কনস্যুলার অ্যাকসেসের সুযোগ দেয়, তাহলে ভারত কুলভূষণের পরিবারকে আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করতে পারবে। আর কুলভূষণকে আদতে কীভাবে, কোথা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটাও জানতে পারবে ভারত। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের অনেক মিথ্যা ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। কনস্যুলার অ্যাকসেসের পথে যেতে রাজি নয় পাকিস্তান।

কুলভূষণ মামলার রায়:

আন্তর্জাতিক আদালতের রায় বলছে, ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ নম্বর আর্টিকলের প্রথম প্যারাগ্রাফ অনুসারে কুলভূষণ যাদবকে কুনস্যুলার অ্যাকসেস দেওয়া হয়নি। এর জেরে কুলভূষণকে তাঁর অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আর এইভাবে পাকিস্তান ভিয়েনা কনভেশন লঙ্ঘন করেছে।
কুলভূষণের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকদের দেখা করতে না দিয়ে ও তাঁর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা করার সুযোগ না দিয়ে পাকিস্তানকে ভারতকে বঞ্চিত করেছে। ৪. দেরি না করে পাকিস্তানকে অবিলম্বে কুলভূষণ যাদবের অধিকার সম্পর্কে তাঁকে অবগত করতে হবে। ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ নম্বর আর্টিকল অনুযায়ী, ভারতকে কনস্যুলার অ্যাকসেস দিতে হবে।