কলকাতা: বিস্তর বাক্‌বিতণ্ডা শেষে পাস হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা ‘সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ বা সংক্ষেপে ‘সিএবি।’ বৃহস্পতিবার রাতেই সেই বিলে শিলমোহর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তৈরি হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, ২০১৯।

বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ এই বিল পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই বিল রাজ্যসভায় আলোচনার জন্য সময় বরাদ্দ করা হয়েছিল ছয় ঘণ্টা কিন্তু এই বিল পেশ ঘিরে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন সরকার-বিরোধী দুই পক্ষই। অবশেষে প্রায় ন’ঘণ্টা শেষে রাজ্যসভার স্পিকার তথা উপ-প্রধানমন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু ভোটাভুটির প্রক্রিয়া শুরু করেন। ভোট শেষে দেখা যায় এই বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ১২৫টি অন্যদিকে বিপক্ষে ভোটের সংখ্যা ১০৫টি। বিজেপি ছাড়াও এই বিল কে সমর্থন জানায় জেডিইউ, এআইডিএমকে, বিজেডি, টিডিপি এবং ওয়াইএসআর-কংগ্রেস-সহ বহু দল। অপরদিকে লোকসভায় সমর্থন করলেও রাজ্যসভায় এই ভোটে অংশ নেয় নি শিবসেনা।

কিন্তু বিরোধিতা সত্ত্বেও রাজ্যসভায় পাস হয়ে যায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল।

কী থাকছে এই বিলে দেখে নেওয়া যাক-

এই বিল ভারতে বসবাসকারী শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদানের স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই বিলে শরণার্থী হিসাবে পড়শি দেশ আফগানিস্তান,পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু,পার্সি,বৌদ্ধ,জৈন এবং ক্রিশ্চানদের এই শরণার্থীদের অন্তর্গত করা হয়েছে। এই বিল অনুযায়ী উপরোক্ত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রত্যেককেই শরণার্থী হিসাবে গণ্য করা হবে। অন্য দেশ থেকে এলেও আর তাঁদের গ্রেফতার বা বিতাড়িত করা হবে না। কোনও রকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতের মাটিতে নাগরিক হিসাবে থাকতে পারবেন তাঁরা।
কিন্তু এই বিলে কোথাও মুসলিম সম্প্রদায়ের উল্লেখ করা হয়নি।

আগে ভারতের নাগরিক হতে ভিনদেশিদের এই দেশে অন্তত পক্ষে ১১ বছর বসবাস করতে হত। এই বিলে সেই সময়সীমা কমিয়ে ৫ বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে। অর্থাৎ পড়শি তিন দেশ থেকে ওই ছয় ধর্মের শরণার্থীদের আর অনুপ্রবেশকারী হিসাবে গণ্য করা হবে না।

কিন্তু এই বিল থেকে বাইরে রাখা হয়েছে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিকে। ভারতীয় সংবিধানের ছয় নম্বর অনুচ্ছেদ এবং বেঙ্গল ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রেগুলেশন (১৮৭৩) দ্বারা অসম,মেঘালয়,মিজোরাম এবং ত্রিপুরাকে এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ অরুণাচল প্রদেশ,নাগাল্যান্ড এবং মিজোরাম,মেঘালয়,অসম, এবং ত্রিপুরার একটা বিশাল অংশকে এই বিলের বাইরে রাখা হয়েছে। এর সঙ্গেই এই নাগরিকত্ব বিল ‘ওভারসিজস সিটিজেনস অফ ইন্ডিয়া’ (ওসিআই) কার্ড প্রাপ্যকদেরও বেশ কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

এই বিল অনুযায়ী যে কোনও বিদেশি যারা হয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিংবা কোনও ভারতীয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ, তাঁরা ‘ওসিআই’ আইন ১৯৫৫ এর অধীনে আসবেন।

এই আইন অনুযায়ী এই কার্ড প্রাপ্যকরা ভারতের যেকোনো স্থানে ঘুরতে পারেন, যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে এবং যেকোনো জায়গায় কাজ করতে পারেন। ‘ওসিআই’ কার্ড প্রাপ্যকদের এই সুবিধাগুলি বজায় রাখলেও কোনও আইন লঙ্ঘন করলে ‘ওসিআই’ কার্ড বাতিল করতে পারে কেন্দ্র।

এই বিল পাসের পরেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধীরা। অন্যদিকে এই বিলের প্রতিবাদে এখনও উত্তপ্ত অসম, মণিপুর-সহ উত্তর-পূর্বের বহু রাজ্য। অসমে কার্ফু জারি হয়েছে। রাজপথে নেমেছে সেনা। বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিসেবা।

এই বিল পাসের পরেই কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধী আজকের দিনটিকে ‘কালো দিন’ আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর টুইট, ‘ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে আজ এক কালো দিন। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের মাধ্যমে ভারতের বহুত্ববাদকে হারিয়ে সংকীর্ণ মানসিকতা ও অসহিষ্ণুতার জয় হল।’

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

Tree-bute: রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও