গত কয়েকদিন ধরে জ্বলছে আমাজনের জঙ্গল। তথ্য বলছে, এটাই প্রথমবার নয়। গত জানুয়ারি থেকে অগাস্ট পর্যন্ত ৭৫,৩৩৬-টি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আমাজনের রেন ফরেস্টেই রয়েছে ৪০,০০০ দাবানলের ঘটনা। গত কয়েকদিন ধরে নতুন নতুন উৎসে লাগতে শুরু করেছে আগুন। নামানো হয়েছে সেনা। এখনও পর্যন্ত আয়ত্তে আসেনি সেই আগুন।

কিন্তু আগুন শুধুই গাছ পোড়াচ্ছে না। ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি।গত ৫০ বছরে ১৭ শতাংশ সম্পদ হারিয়েছে আমাজন। যদি এভাবেই অরণ্য নিধনযজ্ঞ চলতে থাকে, তাহলে ২০৩০-এর মধ্যেই অর্ধেক আমাজন উধাও হয়ে যাবে। আর সম্পূর্ণ অবলুপ্ত হয়ে যেতেও বেশি সময় লাগবে না।

আমাজন যদি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়, তাহলে পৃথিবীর ঠিক কী কী ক্ষতি হতে পারে?

বিশ্বের ফুসফুস:
আমাজনকে বলা হচ্ছে ‘বিশ্বের ফুসফুস’। সুতরাং ফুসফুস চলে গেলে কী হতে পারে তা সহজেই অনুমানযোগ্য। আমাজনের অরণ্য থেকে বিশ্বের ২০ শতাংশ অক্সিজেনের জোগান আসে। তাই সেই বনসম্পদ নষ্ট হয়ে গেলে বাড়বে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ। শুধু কার্বন ডাই অক্সাইডই নয়, আরও অনেক গ্রিন হাউস গ্যাসে ভরে যাবে পৃথিবী। নিঃশ্বাস নেওয়াই দায় হয়ে উঠবে মানুষের।

আবহাওয়ার অস্থিরতা:
বিশ্বের জলবায়ুর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রয়েছে এই আমাজন অরণ্যের। যদি এই অরণ্য বিলুপ্ত হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া তৈরি হবে। যখন তখন হবে বণ্যা কিংবা খরা। আবহাওয়ার মধ্যে আর কোনও সামঞ্জস্য থাকবে না। যার ফলে শুধু মানুষ নয়, হাজার হাজার প্রাণীর বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠবে।

বিলুপ্ত হয়ে যাবে লক্ষাধিক প্রাণ:
তথ্য ও পরিসংখ্যান বলছে আপনার জানা যে কোনও ১০টি প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে অন্তত একটি বাস করে এই আমাজনে। অন্তত আড়াই লক্ষ প্রজাতির পতঙ্গ আছে সেখানে। ৪০,০০০ গাছের প্রজাতি, ২২০০ রকমের মাছ, ১২৯৪ প্রজাতির পাখী, ৪২৭ ধরনের স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৩৭৮ রকমের সরীসৃপ ও ৪২৮ রকমের উভচর প্রাণী রয়েছে সেখানে। সুতরাং আমাজন হারিয়ে গেলে এরা সবাই বাস্তুহারা হবে।