ভর সন্ধেয় বাসের মধ্যে নৃশংস ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল এক যুবতীকে। তারপর টেনে ফেলে দেওয়া হয়েছিল রাস্তায়। সাতদিন ধরে চলেছিল যমে-মানুষে লড়াই। তারপর সব শেষ। তবু সেই নির্ভয়াকে ভোলেনি দেশ। তার জন্য পথে নেমেছিল গোটা দেশ। আট বছর পেরিয়েও নির্ভয়ার হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির অপেক্ষায় দিন গুনেছে ভারতবাসী। এবার সেই মামলাতেই অভিযুক্তদের ফাঁসির নির্দেশ।

২০১২, ১৬ ডিসেম্বর রাত:

রাত ৯টা। প্যারামেডিক্যালের ছাত্রী ও তার এক বন্ধু সিনেমা দেখে ফিরছিলেন। দিল্লির মুনিরকায় অপেক্ষা করছিলেন অটোর জন্য। দ্বারকা ফেরার কথা ছিল তাঁদের। কোনও গাড়ি না পেয়ে একটা অফ ডিউটি চার্টার্ড বাসে উঠে পড়েন দু’জনে।

বাসে উঠেন দেখেন, ড্রাইভারের কেবিনে বসে আছে চারটি ছেলে আর দু’জন কেবিনের পিছনে। বাকি গোটা বাসটা খালি। বাসের বাঁদিকে বসেছিলেন তাঁরা। ২০ টাকা ভাড়াও দেন। এয়ারপোর্টের কাছে ফ্লাইওভারের নিচে পৌঁছয় বাস। হঠাৎ ড্রাইভারের কেবিন থেকে বেরিয়ে আসছে চারটি ছেলে।

নির্ভয়ার বন্ধু বুঝতে পারেন বাসটি ভুল পথে যাচ্ছে। আর দরজাগুলো বন্ধ। চেঁচিয়ে ওঠেন তিনি। শুরু হয় বচসা। এত রাতে একটা মেয়েকে নিয়ে কেন যাচ্ছে? প্রশ্ন করা হয় ওই যুবককে। মারধর করা হয় তাকে। বন্ধুকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন যুবতী। তখন বাসের ভিতর অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তাঁর বন্ধু। তাঁকে টেনে নিয়ে যাওয়া হল পিছনের সিটে। মদ্যপ ছেলেগুলো ধর্ষণ করে তাঁকে। আটকাতে গেলে একটি ছেলে তাঁর শরীরের গোপন অঙ্গে রড ঢুকিয়ে দেয়। মেয়েটি তখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। অর্ধ-নগ্ন, অচেতন যুবতী ও তাঁর বন্ধুকে বাস থেকে ঠেলে ফেলে দিয়ে বেরিয়ে যায়।

রাত ১১টায় তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সফদরজং হাসপাতালে সাতদিন ধরে চলে জীবন-মরণ লড়াই। জীবনের লড়াইতে হেরে যান নির্ভয়া। আদালত কক্ষে সুবিচার যেন তাঁকে জিতিয়ে দেয়, সেই অপেক্ষাতেই রয়েছে সবাই।