নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের ক্যাশলেস ইণ্ডিয়া প্রকল্প কি ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে? রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইণ্ডিয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ কিন্তু সেকথাই বলছে৷ রিপোর্ট বলছে নোটবন্দীর পরে বলা হয়েছিল টাকা লেনদেনের পরিমাণ কমানো হবে ধীরে ধীরে৷ ক্যাশলেস লেনদেনের ওপর জোর দিতে চেয়েছিল মোদীর নতুন ভারত৷

তবে নোটবন্দীর পরে সেই ছবি এখনও উঠে আসেনি৷ রিপোর্ট বলছে, নোটবন্দী হওয়ার পরে যেখানে ক্যাশলেস ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সেখানে সেই স্বপ্ন এখনও অধরা থেকে গিয়েছে৷ কারণ সমীক্ষা বলছে নোটবন্দীর আগে রিজার্ভ ব্যাংক যত টাকা ছাপানোর অনুমতি দিত, নোটবন্দীর পর সেই সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: BIG BREAKING: মিশে যাচ্ছে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্য়াংক

রিজার্ভ ব্যাংকের বার্ষিক রিপোর্ট বলছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক নোট মুদ্রন প্রাইভেট লিমিটেড এবং সিকিওরিটি প্রিন্টিং অ্যাণ্ড মিন্টিং কর্পোরেশন অফ ইণ্ডিয়া লিমিটেড এই নোট ছাপায়৷ ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে ২৯১৯.১ কোটি পিস নোট ছাপা হয়েছে৷ তবে টাকা ছাপানোর খরচ আগের তুলনায় কমেছে বলে জানাচ্ছে সমীক্ষা৷

২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে অর্থাৎ যে বছর নোটবন্দীর কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী, সেই বছর এই সংখ্যার অনেক কম পরিমাণ নোট ছাপা হয়েছিল৷ এর আগে অর্থমন্ত্রক জানায়, নোটবন্দীর পরই নতুন ৫০০ এবং ২০০০টাকার নোট এসেছে বাজারে৷ ৫০০ টাকার নোট ছাপাতে খরচ হয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা৷

আরও পড়ুন: চাকুরিজীবীদের জন্য সুখবর, সুদের হার বাড়াচ্ছে ইপিএফ

২০১৬ সারের ৮ ডিসেম্বর দেশে বেড়ে চলা দুর্নীতি রুখতে এক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ কালোটাকার কারবার রুখতে সমস্ত পুরোনো টাকার নোট বাতিল করে দেওয়া হয়৷ এরপরই কেন্দ্রের তরফে নতুন ৫০০ এবং ২০০০টাকার নোট তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়৷

আরও জানানো হয় ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর অবধি ১,৬৯৫ কোটি ৫০০ টাকার নোট ছাপানো হয়েছে৷ এই নোট ছাপাতে খরচ হয় প্রায় ৪,৯৬৮ কোটি টাকা৷ একই সঙ্গে তিনি জানান, ১৭৮ কোটি ২০০ টাকার নোট ছাপাতে খরচ হয় প্রায় ৫২৩ কোটি টাকা৷