নয়াদিল্লি : করোনা ভাইরাসের জেরে চলছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম। আপাতত এই নিউ নর্মাল জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন দেশের ৭০ শতাংশ চাকুরীজীবী। করোনা সংক্রমণের জেরে কাজের ধরণ বদলে ফেলেছে ভারত। লক্ষ লক্ষ চাকুরীজীবী বাড়ি থেকে বসে কাজ করছেন সেই মার্চ মাস থেকে।

অনেকে তার আগে থেকেই ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন। এই চার পাঁচ মাসে বেশ কিছুটা হাতে টাকাও জমেছে তাঁদের। বাড়ি থেকে কাজ করার সুবিধা একটাই সঞ্চয় করা যায়। কারণ খরচ হয় না মাস মাইনের একটা অংশ। কিন্তু জানেন কি ওয়ার্ক ফ্রম হোমে বাড়তে পারে করের বোঝা? অবাক লাগলেও বিষয়টা সত্যি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার দরুণ আপনাকে গুণতে হতে পারে বেশি কর। অথচ অনেকেই এটা জানেন না। ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার জন্য ট্রাভেল অ্যালাউন্স বা হাউস রেন্ট প্রয়োজন হচ্ছে না।

বাঁচছে এই টাকা। এগুলো কিন্তু করছাড়ের আওতায় ছিল। যা ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ক্ষেত্রে করদানের আওতায় চলে এসেছে।এছাড়াও বহু কোম্পানি কর্মীদের লিভ ট্রাভেল অ্যালাউন্স বা এলটিএ দেয়, যা এখন প্রয়োজন হচ্ছে না খরচ করার।

কারণ করোনা আবহে কেউই বেড়াতে যাচ্ছেন না। ফলে সেই টাকাও জমছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন মনে করুন কোনও ব্যক্তি লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পরেই নিজের বাড়ি ফিরে গিয়েছেন কোনও ব্যক্তি। তিনি এখন ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন।

ফলে নিজের বাড়ি ভাড়া বাবদ ১৫ শতাংশ বাঁচছে তাঁর। কিন্তু যতদিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম চলবে, ততদিন এই খাতে করছাড়ের দাবি তিনি করতে পারবেন না। কোনও ব্যক্তি ১৫ হাজার টাকা ঘর ভাড়া বাবদ পান, এবং পুরো টাকাটাই তাঁর ভাড়া দিতে হয়, তবে তাতে কর ছাড় রয়েছে।

কিন্তু ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তিনি যদি ৯ মাস বাড়ি ভাড়া না দিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর কর যোগ্য উপার্জন বেড়ে দাঁড়াবে ১,৩৫,০০০ টাকা৷

যদি কোনও কর্মী ২০ শতাংশ ট্যাক্স ব্র্যাকেটে পড়েন, তাহলে তাঁকে ২৭ হাজার টাকা কর দিতে হবে৷ তবে তিনি যদি পরিবারের কোনও সদস্যের বাড়ি ভাড়া বহন করেন, তাহলে কর ছাড়ের দাবি করতে পারেন বলে জানাচ্ছেন কর বিশেষজ্ঞরা ।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।