সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : ২৫শে ডিসেম্বরের শীতের পথে বাধা হতে পারে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। এমনটাই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কিছুদিন আগেও পশ্চিমী ঝঞ্ঝা আটকে রেখেছিল উত্তুরে হাওয়াকে। বিগত তিন চারদিনে ফের ফিরেছিল ঠাণ্ডা আবহাওয়া। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে আশাবাদী হয়ে পড়ার কোনও কারন নেই বড়দিনের ঠাণ্ডা আটকানোর পথে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই পশ্চিমী ঝঞ্ঝা।

রাজ্যের শীতের মুখে ফের বাধা পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। ফলে উত্তুরে হাওয়ায় কাঁপতে কাঁপতে কেক খাওয়া বা বাড়িতে বসে রুটি মাংসের ঝোলের চড়ুইভাতি লাগিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন আপাতত শিকেয়। শীতের দুপুরে চিড়িয়াখানা অথবা ভিক্টোরিয়ার রোদ মাখার বদলে বাড়তে পারে অস্বস্তি। ফের আবহাওয়ার দোলাচলের খবর শোনাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।

কারন বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ যে উত্তুরে হাওয়া টেনে আনে, তা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। কারণ হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর তুষারপাত হয়েছে। এতে শক্তিশালী হয়েছে জেট বায়ু। যা ঢুকতে বাধা দিচ্ছে উত্তুরে হাওয়াকে। যাকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বলেই ব্যখ্যা করছেন আবহবিদদের। ফলে বড়দিনের সময় তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি কম। সকালে একটু হিমেল ভাব অনুভূত হচ্ছে, কিন্তু বেলা বাড়তেই সোয়েটার বা জ্যাকেট গায়ে রাখা দায়!

তবে বড় দিনে আবহাওয়ার এমন বেহাল অবস্থা বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। আবহবিদ এইচ.আর বিশ্বাস জানিয়েছেন, “২০১৫ সালে ২৫শে ডিসেম্বরের আবহাওয়া খুবই খারাপ ছিল। ওই বছর কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ৪ ডিগ্রি বেশি।”  ২০১৬ সালের ক্রিসমাসে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের থেকে যা ৩ ডিগ্রি বেশি ছিল । যা পরিস্থিতি তাতে খুব খারাও না হলেও  থরহরিকম্প দিয়ে শীত পরার সম্ভবনা কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ১৫ ডিগ্রির। সর্বোচ্চ থাকবে ২৫-এর আশপাশে। প্রয়োজন ২৫-এর নিচে যাওয়ার। তাহলেই জাঁকিয়ে পড়ে শীত। কিন্তু ওই এক ডিগ্রির পথেই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ঝঞ্ঝা।

তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, “বৃথা আশা মরিতে মরিতেও মরে না।” তাই পশ্চিমী ঝঞ্ঝা যদি আগামি ৪৮ ঘণ্টায় কেটে গেলে ফের ঠাণ্ডা পরতে পারে। আপাতত ঝঞ্ঝার গতিবিধির দিকে নজর রয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের। তার উপরেই নির্ভর করছে কলকাতা সহ রাজ্যের পঁচিশের শীত ভাগ্য।