কলকাতা: জলাশয় বুজিয়েই কলকাতার কাছে তৈরি হয়েছিল সল্টলেক। সেই সল্টলেক এখন প্রায় পূর্ণ নগরী। স্কুল, কলেজ, অফিস, বাজার, বড় বড় ইমারতে জমজমাট সল্টলেক। আর সেই সল্টলেকের জন্য এবার বিপদসঙ্কেত দিল জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। গবেষকরা দেখেছেন ক্রমশ বসে যাচ্ছে সল্টলেকের মাটি।

একটু একটু করে নামছে সল্টলেক নগরী। আর সেই হারটাও নেহাত কম নয়। প্রত্যেক বছর অন্তত ১৯-২০ মিলিমিটার করে নেমে যাচ্ছে সল্টলেক। গত আড়ই বছর ধরে একটি সমীক্ষা চালিয়ে এই রিপোর্ট দিয়েছে জিওলজিক্যাল সার্ভে। গ্লোবাল পজিসনিং সিস্টেন থেকে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে এই রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। জিওলজিক্যাল সার্ভের তরফ থেকে ডিরেক্টর ড. সন্দীপ সোম জানিয়েছেন, শুধু সল্টলেকই নয়, ৩০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকা জুড়ে এই ঘটনা ঘটছঢে। অর্থাৎ, বলাই যায় যে কলকাতাও একইভাবে নেমে যাচ্ছে।

জিএসআই ইতিমধ্যেই সার্ভে করে দেখছে যে কোন জায়গাটা সবথেকে বেশি বিপদসঙ্কুল। সেসব ক্ষত দ্রুত সারানোর চেষ্টাও চলছে। একেবারের মিলিমিটারের হিসেবে ওইসব জায়গা চিহ্নিত করা সম্ভব বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে জমি বসে যাওয়ার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। জলের জন্য হতে পারে, আবার টেকটনিক মুভমেন্টের জন্য হতে পারে বলেও জানিয়েছেন ওই আধিকারিক। তবে সল্টলেক বা কলকাতা ছাড়াও দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরও এই সমস্যা ভু্গছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাসনো জিপিএস স্টেশনে ধরা পড়েছে জয়পুর, দেরাদুন, হায়দরাবাদ কিংবা বেঙ্গালুরুতেও সবার অজান্তে এই ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, পাটনা, নাগপুরের মত শহর কিছুটা উচ্চতায় বাড়ছে। টেকটনিক মুভমেন্টের জন্যই এই ঘটনা ঘটছে। তবে দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি খারাপ অবস্থায় আছে সল্টলেক, কলকাতা, জয়পুর।

দেশ জুড়ে মোট ২২টি অবজারভেটরি সেট করা হয়েছে, একটি রয়েছে সল্টলেকেও। বর্তমানে ২২টি জিপিএস ও ১০টি ব্রডব্যান্ড স্টেশন কার্যকর রয়েছে। আগামিদিনে ৩৫ টিন স্টেশন পাকাপাকিভাবে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। পৃধিবীর গভীরে কি চলছে, সেটা জানাই জিএসআই-এরব মূল উদ্দেশ্য।