ফাইল ছবি।

স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল গোটা শহর৷ কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে ওই এলাকা৷ প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা৷ অবিলম্বে উদ্ধার কাজের বিশেষ প্রয়োজন৷ তবে কিভাবে হয় এই উদ্ধার কাজ? উদ্ধার কাজেরও বিশেষ কিছু আদপকায়দা থাকে৷ বুধবার এই ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা করারই বেশ কিছু প্রশিক্ষণ দেওয়া হল জলপাইগুড়ি শহরে৷

ভূমিকম্প হলে কী কী করণীয় তার মহড়া চলল এই শহরে৷ এদিন শহরের রাজবাড়ি পাড়ার একটি সরকারি আবাসনের ছাদ থেকে এই ধরনের প্রশিক্ষণ ধরা পড়ে৷ দেখা যায়, ওই সরকারি আবাসনের ছাদ থেকে সাধারণ মানুষকে কাঁধে করে উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে৷ রাজ্য সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের নির্দেশে এই ধরনের মহড়ার আয়োজন করা হয়েছিল৷

এর কারণ স্বরূপ উঠে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গে মোট দশটি ভুমিকম্প প্রবণ এলাকায় এই মহড়া চলছে। পাশাপাশি সিকিমেও এই মহড়া শুরু হয়েছে৷ এই মহড়ায় ভূমিকম্পের পরবর্তী পরিস্থিতিকেই তুলে ধরা হয়৷ হঠাৎ আসা বিপর্যয়ের পর ঠিক কিভাবে সামাল দেওয়া হয় সেই প্রশিক্ষণই হাতেনাতে দেওয়া হল এদিন৷ দেখানো হয়, এদিন সকাল প্রায় সাড়ে ১০ টা নাগাদ তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে জলপাইগুড়ি শহর৷ আর তারপরই ‘ক্যুইক রেসকিউ টিম’-কে নামানো হয় উদ্ধার কাজে৷

প্রশাসনের কি কি করণীয় সেই বিষয়টি ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়৷ যেমন ভূমিকম্পের পর মোবাইলে যোগাযোগের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে৷ সেক্ষেত্রে ভূমিকম্প হওয়া এলাকায় কেউ কারোর সঙ্গেই মোবাইলে যোগাযোগ করতে পারে না৷ সেক্ষেত্রে পুলিশের আর টি সেটের মাধ্যমে রাজ্য দফতরে যোগাযোগ করা হয়৷ প্রথম পর্যায়ে সিভিল ডিফেন্স উদ্ধার কার্য শুরু করে থাকে৷ এরপরেই নামানো হয় এনডিআরএফ-কে৷ তখন তাঁরা উদ্ধার কাজে হাত লাগায়৷

এক দিনের এই মহড়া অনুষ্ঠান হয় জেলা আধিকারিক ও জেলা রেসকিউ টিমের সদস্যদের নিয়ে৷ অন্যদিকে, এদিনের এই মহড়ায় যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে সেই সমস্যাগুলি উপস্থিত বিএসএফ, সিআরপিএফ, এসএসবি সহ অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীর আধিকারিকেরা বিষয়টি প্রশিক্ষণ দেন৷

সদর বিডিও তাপসী সাহা বলেন, ‘‘আজ সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ভূমিকম্প হয়। এরপর আমাদের কুইক রেসকিউ টিমের কি কি করণীয় কাজ রয়েছে সেই কাজের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়৷ একাধিক আধাসামরিক বাহিনী আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন৷’’ পাশাপাশি জলপাইগুড়ি রেসকিউ টিমের আধাকারিক দীপঙ্কর হালদার বলেন, ‘‘ভুমিকম্প হওয়ার পর কি কি করনীয় সেই বিষয়গুলি হাতে কলমে বোঝানো হয়। এই ধরনের উদ্দ্যোগ রাজ্য সরকারের নিদের্শে করা হচ্ছে। দশটি ভুমিকম্প প্রবণ এলাকায় চলছে প্রশিক্ষণ৷’’